নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: সময়ের সঙ্গে অনেকটাই বদলেছে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের দূর্গাপুজোর ধরন। সময়ের সঙ্গে বেড়েছে থিম পুজোর জনপ্রিয়তা। নিজেদের থিমে সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু পুজোর প্যান্ডেলে ফুঁটিয়ে তুলতে শুরু করেছেন শিল্পীরা। নজরকাড়া থিমের বিষয়বস্তুর কারণেই আজ কার্যত ‘আর্ট ফেস্ট’ হয়ে উঠেছে কলকাতার দুর্গাপুজো। কলকাতা ও অন্যান্য শহরগুলিতে পুজোর থিমে যে ধরনের শিল্পকর্ম ফুঁটে উঠতে দেখা যায়, সারা বিশ্বে এই ধরনের ছবি কার্যত বিরল। কিন্তু, সরকারের পরিবর্তে এবার ধাক্কা খেতে পারে থিম পুজোর জনপ্রিয়তা ও জাঁকজমকতা। সম্প্রতি দুর্গাপুজোর থিম সম্পর্কে কড়া বার্তা দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
সম্প্রতি দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষা এবং পুজোর পরিবেশ কে আরও পবিত্র ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার লক্ষ্যে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তরফে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় উপস্থিত ছিলেন ফোরাম ফর দুর্গোৎসব কমিটির সদস্য ছাড়াও পুরোহিত ও বিভিন্ন পুজো কমিটির প্রতিনিধিরা। ছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় মার্গদর্শন মন্ডলের সদস্য নির্বাণানন্দ মহারাজ। সেই অলাচনা সভাতেই থিম সম্পর্কে কড়া বার্তা দিয়েছে বিএইচপি। আলোচনাসভায় দুর্গাপুজোর বিভিন্ন রীতি ও আচার নিয়েও একাধিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
থিম পুজো নিয়ে কী বার্তা দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ?
একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, থিম পুজো নিয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে আলোচনাসভায়। পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সনাতন সংস্কৃতিকে বজায় রেখে যে কোনও থিম করা যেতে পারে। কিন্তু, জুতো, ছেঁড়া জামা কিংবা সনাতন সংস্কৃতির সঙ্গে অসঙ্গত কোনও উপকরণ ব্যবহার করে ‘বিকৃত’ থিম তৈরি করা হলে তাঁর বিরোধিতা করবে পরিষদ। একইসঙ্গে সাবেকি পুজোর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনারও আবেদন করা হয়েছে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই নির্দেশের পর আদৌ আর কতটা স্বাধীনভাবে থিমের শিল্পীরা কাজ করতে পারবেন সেই বিষয়টি নিয়ে নাগরিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে, চলতি বছরে কলকাতায় থিমের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্যণীয় হতে পারে। দুর্গাপুজোর বাকি আর হাতে গোনা কয়েকদিন। এরই মধ্যে নয়া নির্দেশের কারণে সমস্যায় পড়তে পারে বেশ কিছু পুজো কমিটি।
আলোচনায় দুর্গাপুজোর বিভিন্ন রীতি ও আচার নিয়েও একাধিক পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। এই প্রসঙ্গে নির্বাণানন্দ মহারাজ উল্লেখ করেছেন, ‘চক্ষুদান বা প্রদীপ জ্বালিয়ে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন নয়।‘ অর্থাৎ, স্পষ্টভাবেই চক্ষুদান বা প্রদীপ জ্বালানোর মাধ্যমে পুজোর উদ্বোধনে আপত্তি রয়েছে পরিষদের। তাঁর মধ্যে ‘বোধন’ ও ‘উদ্বোধন’ -এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রতিপদ অর্থাৎ, দেবীপক্ষের সূচনা থেকেই পুজোর আবহ তৈরি হওয়া উচিত বলেও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
.jpeg)
