নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত কয়েক বছরে দুর্গাপুজোয় শহরবাসীর কাছে আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল পুজো কার্নিভাল। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এই পুজো শেষের ঠাকুর দেখার উদ্যোগ প্রশংসাও কুড়িয়েছিল সমাজমাধ্যমে। কিন্তু, একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, নতুন সরকারের আমলে এবার বন্ধ হতে চলেছে দুর্গাপুজো কার্নিভাল। পরিবর্তে পুজোর আগে এবং পুজো চলাকালীন জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের বহর বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। কার্নিভালের জন্য যে অর্থ খরচ হত সেটি এই অনুষ্ঠানগুলির পিছনেই ব্যয় করা হতে পারে।
সূত্রের খবর, পুজো চলাকালীন মানুষ যে ঠাকুরগুলি প্যান্ডেলে গিয়ে দর্শন করে নিচ্ছেন, সেগুলিকে নিয়ে ফের একবার কার্নিভাল করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশাসনিক মহলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় প্রশ্ন উঠেছে। তবে, এই কার্নিভাল বন্ধ করে দেওয়ার পিছনে নির্দিষ্ট কোনও কারণ জানা যায়নি। প্রসঙ্গত, কলকাতার রেড রোড ছাড়াও প্রতিটি জেলা সদরে বিগত সরকারের আমলে দুর্গাপুজো কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হত। তবে, বর্তমান বিজেপি সরকার সেই কার্নিভালে ইটি টানতে চলেছে বলেই একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর।
দুর্গাপুজোর পর এই অনুষ্ঠান করার পরিবর্তে মহালয়ার পর অর্থাৎ, মাতৃপক্ষের সূচনা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে একাধিক জাঁকজমক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে কলকাতার রেড রোডে এই কার্নিভালের সূচনা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরের বছর থেকে প্রতি জেলায় এই অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সাধারণভাবে দশমীর একদিন বা দ’দিন পর কলকাতা কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হত। জেলা কার্নিভালগুলি অনুষ্ঠিত হত মাঝের একটি দিনে।
কলকাতার এই দুর্গাপুজো কার্নিভালে শহরের প্রায় ১০০ টি সেরা দুর্গাপুজো কমিটির প্রতিমা অংশগ্রহণ করত। সঙ্গে থাকত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। মূলত যে সমস্ত পুজো কমিটি বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মান পেত, তাদেরকেই এই কার্নিভালে অংশগ্রহণ করতে দেখা যেত। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন। সঙ্গে মঞ্চে থাকত তারকাদের ভিড়।
তবে, এই অনুষ্ঠানের পরিবর্তে এবার দুর্গাপুজো চলাকালীন একাধিক জাঁকজমক অনুষ্ঠান দেখা যেতে পারে। যদিও, পুজোর যে অনুষ্ঠান হবে তা এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত রূপ নেয়নি বলেই সূত্রের খবর। সমস্ত রীতিনীতি মেনে পুজো সংক্রান্ত অনুষ্ঠান সূচি সাজানো হচ্ছে। দুর্গাপুজোর সময়ে রাজ্যে উপস্থিত থাকতে পারেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। এমনকি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতির জল্পনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। সবমিলিয়ে এবার শহরের দুর্গাপুজোয় একাধিক নতুন চমক লক্ষ্যণীয় হতে পারে।
