শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব, সুরুচি সংঘ সহ বেশ কয়েকটি বড়ো পুজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে। কারণ বেশ কয়েকটি পুজোর কর্ণধার এখন জেলে। কলকাতার দুর্গাপুজো বলতেই যে পুজোর নামগুলি চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তার প্রথম সারিতে নিঃসন্দেহে থাকে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বোসের পুজোর জাঁকজমকে বিস্মিত হয় আট থেকে আশি। প্রায় ১৫ দিন ধরে চলে উৎসব। শুধু লেকটাউনের এই পুজো কেন, উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে তৃণমূল নেতা এবং প্রাক্তন মন্ত্রীদের বহু পুজো। বিগ বাজেটের সেসব পুজো থেকে নেতা-মন্ত্রীদের আয়ও হত আকাশছোঁয়া, নিন্দুকরা অন্তত তেমনটাই দাবি করে এসেছেন এতকাল।
কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর এক মন্ত্রী, কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেউ কেউ আবার ‘ডিম থেরাপি’র আশঙ্কায় জনসমক্ষে বেরনোর ঝুঁকি নিচ্ছেন না! এমন পরিস্থিতিতে জোরাল হচ্ছে একটা প্রশ্ন। তৃণমূলের হেভিয়য়েটদের পুজোর এবার ভবিষ্যৎ কী? পুজোর আর চার মাসও বাকি নেই। এই সময়ে শহরের নামী পুজোর বেশিরভাগেরই মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এবারের ছবিটা অনেকটাই আলাদা।
অরূপ বিশ্বাসের পুজো বলে পরিচিত সুরুচি সংঘ চত্বরে এখনও পর্যন্ত কোনও পুজো পুজো গন্ধ নেই। আপাতত প্রাক্তন মন্ত্রীমশাই ব্যস্ত নিজেকে ‘আসল তৃণমূল’ প্রমাণ করতে। গড়িয়াহাট এলাকার দুই বিগ বাজেটের পুজো হিন্দুস্তান ক্লাব এবং ত্রিধারার নেপথ্যেও দুই প্রাক্তন বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং দেবাশিস কুমার। তাঁরাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাম লিখিয়েছেন ঋতব্রত শিবিরে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কিন্তু বেশ জটিল।
পাটুলি এলাকার কেন্দুয়া শান্তি সংঘের পুজোর প্রধান উদ্যোক্তা তথা কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের বর্তমান ঠিকানা পুলিশ হেফাজত। ফলে পুজোর প্রস্তুতির কোনও তোড়জোড়ই চোখে পড়ছে না। ক্লাবের তরফে যদিও বলা হচ্ছে, প্রতিবারের মতোই পুজো হবে এবারও। রাজডাঙা নব উদয় সংঘের পুজোর পৃষ্ঠপোশক সুশান্ত ঘোষও এখন পুলিশের জালে।
কলকাতার পুজো কমিটিগুলির জন্য বরাবর সিদ্ধহস্ত ছিলেন প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৫ সালে ক্লাব পিছু পুজোর অনুদান বাড়িয়ে করেছিলেন ১ লক্ষ ১০ হাজার। ফলে রাজ্য়ের রাজকোশের একটা বড় অর্থ চলে যেত পুজো খাতে। পুজো থেকে আয়ের পরিমাণও ছিল আকাশছোঁয়া। তবে বিরোধীরা বারবার দাবি করেছে, এই আয়ের অর্ধেকই চলে যেত নেতা-মন্ত্রীদের পকেটে। আর সেই অভিযোগ যে নেহাত মিথ্যে ছিল না, তা লেকটাউনের বাসিন্দাদের একাংশের কথাতেই স্পষ্ট। শ্রীভূমির স্পোর্টিং ক্লাবের নামে ৫০ শতাংশ অর্থ যেত সুজিত বোসের কাছে! তাই শ্রীভূমির যে চাকচিক্য দেখে অভ্যস্ত পুজোপ্রেমীরা, এবার হয়তো তা দেখা যাবে না। তাই কলকাতার বড় পুজো নিয়ে নাগরিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে।

