শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: বাড়িটি বেশ পুরোনো। ১৯/২০ জান থাকতেন সেই বাড়িতে। কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টিতে হয়তো বাড়ির দেওয়াল কিছুটা দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। আর মঙ্গলবার সকালে তা ভেঙে পরে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দেওয়াল চাপা পড়ে ইতিমধ্যেই এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। মৃতার নাম ঊর্মিলা সাউ। জানা গিয়েছে, ভোরবেলা তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তখনই ভেঙে পড়ে বাড়ির ওই অংশ। বাকি ১৯ জন আটকে পড়েন বলে খবর। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা NDRF। অনেককেই ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। পাথুরিয়াঘাটার জোড়াবাগান ব্রজদুলাল স্ট্রিটের ঘটনা। ৩১ নম্বর ব্রজদুলাল স্ট্রিট। সেখানেই রয়েছে ২০০ বছরের পুরনো তিনতলা বাড়িটি। ছয় মাস আগেই বাড়িটির পিছনের অংশের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই বাড়িটির একাংশ কার্যত ঝুলে ছিল। কলকাতা পুরসভার তরফে বাড়িটি বিপজ্জনক এবং পরিত্যক্ত করার কথা বলা হলেও, বাস্তবে বাড়ি খালি করা সম্ভব হয়নি।
বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটেদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ। সেই বিবাদ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। অভিযোগ, নতুন মালিকরাও বাড়িটির একটি অংশে বসবাস করছিলেন। ফলে বিপজ্জনক বাড়ি খালি করার প্রশাসনিক উদ্যোগ কার্যত আটকে যায় বিবাদ এবং আইনি জটিলতায়। মঙ্গলবার ভোররাতে আচমকাই বিপত্তি। ভেঙে পড়ে তিলতলা বাড়ির একাংশ। মৃত্যু হয় ওই বাড়িরই এক মহিলার। মৃতার স্বামী জানিয়েছেন, বাড়ির ভিতর থেকে বিকট শব্দ শুনে বেরিয়ে আসেন উর্মিলা সাউ। আর সেই মুহূর্তেই হুড়মুড়িয়ে তাঁর উপর ভেঙে পড়ে বাড়ির একাংশ। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় ষাটোর্ধ্ব মহিলার। প্রতিবেশীদের দাবি, বাড়িটিতে প্রায় ২০ জন সদস্য থাকতেন। গ্রাউন্ড ফ্লোরে স্বামী ও ছেলেদের সঙ্গে থাকতেন উর্মিলা সাউ। বাড়ির পিছনের অংশে থাকতেন নতুন মালিকপক্ষের সদস্যরাও। তাঁরাও ধসের সময় আটকে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারাই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করেন। আপাতত বাড়িটি পুরো ভেঙে ফেলার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।

