নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: শহর কলকাতায় গণধর্ষণের অভিযোগ। সম্প্রতি প্রকাশ্যে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর খবর। একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতার বেহালা অঞ্চলের সরশুনা পুলিশ স্টেশনে একটি গণধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, এক নাবালিকা কে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই নাবালিকার একটি অশ্লীল ভিডিও রেকর্ড করে তাকে ধারাবাহিকভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।
সূত্রের খবর, বুধবার বিএনএস -এর ধারা ১২৩, ৩৫১ (২) এবং ৬১ (২) -এর অধীনে পকসো আইনের ৪,৬ এবং ১০ ধারার সঙ্গে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুসারে, এই ঘটনাটি ঘটেছে ১৭ থেকে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে। অভিযোগকারী মেয়েটির মা জানিয়েছেন, চকলেটের প্রোলোভন দেখিয়ে গাড়িতে তুলে এই অপরাধের কাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। ঘটনার দিন নির্যাতিতা বেহালায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময়েই বেহালায় নির্যাতিতার সামনে একটি গাড়ি এসে দাঁড়ায় ও তাকে গাড়িতে উঠে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুসারে, এই গাড়িটিতে নির্যাতিতা মেয়েটির স্কুলের একজন বন্ধ ছাড়াও দুজন অপরিচিত পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। মূলত স্কুলের বন্ধুর উপস্থিতি দেখেই নির্যাতিতা ওই গাড়িতে ওঠেন।
অভিযোগের তথ্য অনুসারে, মেয়েটি গাড়িতে ওঠার পর তাকে ঘুমের ওষুধ মেশানো একটি চকলেট দেওয়া হয়। সেই অসুধ খাওয়ার পরেই মেয়েটি নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এরপর থাকে একটি অপরিচিতি স্থানে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। সেখানে অভিযুক্তরা নির্যাতিতার উপর যৌন নির্যাতন চালায়।
অভিযোগকারী আরও উল্লেখ করেছেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার হওয়া নাবালিকার একটি অপত্তিকর ভিডিও রেকর্ড করে রাখনে এবং পরবর্তীতে তাকে হুমকি দেন, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পরিণতি গুরুতর হবে। স্পষ্ট কথায় পুলিশি হস্তক্ষেপ আটকাতে ব্ল্যাকমেল। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঘটনার পর নির্যাতিতা ভয়ানক মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকেন। ফলে, পরিবারের তরফে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়নি। দায়ের হয়নি এফআইআরও। অবশেষে ন্যায়ের প্রত্যাশায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার।
পুলিশের তরফে একটি সংবাদ সংস্থা কে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তকে শনাক্ত করার পাশাপাশি তাকে খুঁজে বের করার জন্য নির্যাতিতার স্কুলের বান্ধবী অর্থাৎ, দ্বিতীয় মেয়েটির কথিত ভূমিকা যাচাই করা হবে। যে গাড়ি ও স্থানে এই ঘটনাটির সূত্রপাত, সেটিও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই সাক্ষীদের বয়ান সংগ্রহ করা হয়েছে।
