যার হওয়ার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি ধরা হয়েছিল, তার কাঁধেই দলের পক্ষ থেকে সঁপে দেওয়া হল দায়িত্বভার। ফের মহানাগরিকের দায়িত্ব বর্তাল ফিরহাদ হাকিমের ওপর। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্র নিবাস হলে ফিরহাদকে এই দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়। আগামী পাঁচ বছর কলকাতা রাশ থাকবে তাঁর হাতেই।
{link}
মেয়র পদে বসার যে ফিরহাদের একটি জোর সম্ভাবনা রয়েছে তা অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতৃত্বই এর পূর্বে অনুমান করেছিলেন। এবং কোন অংকে তাঁকে ওই পদে বসানো হবে, তাও বলে দেওয়া হয়েছিল। শেষমেশ সেই খবরই সত্য হল। যদিও মেয়র হওয়ার দৌড়ে ছিলেন দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর মালা রায়, অতীন ঘোষ এবং দেবাশিস কুমার। কিন্তু তাঁদের টপকে মেয়র হয়ে গেলেন ফিরহাদ হাকিমই।
{link}
কলকাতা পুরসভায় দীর্ঘদিন মেয়র পদে ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। শোভন সরে যাওয়ার পর ২০১৮ সালে ওই পদে বসানো হয় ফিরহাদকে। ফিরহাদ দীর্ঘদিনের বিধায়ক। কয়েক বছর ধরে তিনিই সামলাচ্ছেন মেয়রের দায়িত্ব। মমতার ঘনিষ্ঠ বৃত্তেও রয়েছেন তিনি। করোনা-কালে তিনিই দক্ষ হাতে সামলেছেন যাবতীয় দায়-দায়িত্ব। বন্দর এলাকার সাতটি ওয়ার্ডই তিনি তুলে দিয়েছেন তৃণমূলের হাতে। ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি জয়ীও হয়েছেন বিপুল ভোটে। ফিরহাদ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তাঁকে মেয়র করা হলে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক অটুট থাকবে। সব মিলিয়ে মমতার অনুগত ফিরহাদের মাথায়ই উঠতে পারে কলকাতা পুরসভার মেয়রের তাজ। সেই মতো এদিন তাঁর নাম প্রস্তাব করেন সুব্রত বক্সি। পরে তাতেই পড়ে শিলমোহর। পুরসভার বকেয়া কাজ শেষ করার আশ্বাস দেন ফিরহাদ। ফিরহাদকে মেয়র পদে বসানো হলেও, মালাকে দেওয়া হয় চেয়ারম্যানের পদ। আর ডেপুটি মেয়র পদে বসানো হয় অতীন ঘোষকে। আসন্ন পাঁচ বছরে এই তিনজনের কাঁধেই থাকবে কলকাতা পুরসভার গুরুদায়িত্ব। কলকাতার উন্নয়নের গ্রাফ আসন্ন এই পাঁচ বছরে কতোটা ওঠে কিংবা তার অবনমন হয় নাকি, তাই দেখার বিষয়। মেয়র সাহেবের নয়া ইনিংস কেমন হবে, তাও বলবে সময়!
