আগামী সপ্তাহে বৃহস্পতিবার কালীপুজো। উমার বিদায় নেওয়ার পর আলোর রোশনাই নিয়ে মর্তে আসবেন শ্যামা। তামাম বাংলায় জাঁকজমক সহকারে হবে পুজো। পুজো হবে উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর বাটিতেও। কিন্তু উল্লেখযোগ্যভাবে এখানে মা কালীর কোনও বিগ্রহ পুজো হয় না। রামকৃষ্ণদেবকেই মা কালী রূপে পুজো করার রীতি বহু বছর ধরে প্রচলিত এইখানে। কালীরূপে রামকৃষ্ণের পুজো দেখতে ভিড় করেন হাজার হাজার ভক্ত।
{link}
কার্তিক মাসের অমাবস্যা দ্বিপান্বিতা অমাবস্যা নামে খ্যাত। এদিন সারা বাংলায় কালীপুজো হবে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায়ও কালীপুজো হবে এই দিনে। অমানিশায় পুজো হবে দেবী কালিকার। এদিন অবশ্য কালীঘাটে দেবী কালিকাকে মা লক্ষ্মীরূপে পুজো করা হয়। কালীপুজো হয় দক্ষিণেশ্বর সহ রাজ্যের বিভিন্ন কালীক্ষেত্রেও। সতীপীঠগুলিতেও কালীপুজো হয় নিষ্ঠা সহকারে।
{link}
উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর বাটিতেও এদিন হবে কালীপুজো। তবে এখানে মা কালীর কোনও বিগ্রহ কিংবা ফটো পুজো হয় না। এখানে রামকৃষ্ণদেবকেই কালীরূপে পুজো করা হয় এদিন। কেন এই অদ্ভুত নিয়ম?
এর কারণ জানতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে ১৮৮৫ সালে। ২রা অক্টোবর বলরাম বসুর বাড়ি থেকে রামকৃষ্ণ গিয়ে ওঠেন শ্যামপুকুর বাটিতে। ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল অসুস্থ ঠাকুরের। ঠাকুর অসুস্থ হলেও নিয়মিত জপ-তপ-ধ্যান-সমাধি নিয়েই থাকতেন। ওই বছর কালীপুজো পড়েছিল ৬ নভেম্বর। শিষ্যদের কালীপুজোর আয়োজন করতে বলেছিলেন অসুস্থ ঠাকুর। কিন্তু রামকৃষ্ণের শিষ্যরা কোনও বিগ্রহ নিয়ে আসেননি সেদিন। ধ্যানস্থ রামকৃষ্ণকেই কালী রূপে পুজো করেছিলেন তাঁরা।
{link}
রামকৃষ্ণদেবের এই ভক্ত-শিষ্যদের মধ্যে ছিলেন নাট্যকার গিরীশ ঘোষের মতো ব্যক্তিত্বও। রামকৃষ্ণের প্রয়াণের পরে ঐতিহাসিক এই বাড়ির রাশ আসে রামকৃষ্ণ মিশনের হাতে। তার পরেও বদলায়নি সেদিনের সেই রীতি। আজও ফি কালীপুজোর রাতে এ বাড়িতে রামকৃষ্ণদেবকেই পুজো করা হয় কালীরূপে। এখানেই তো ধর্মের মাহাত্ম। মায়ের সন্তানকেই পূজা করা হচ্ছে স্বয়ং মা ভেবে কল্পনা করে নিয়ে। পূজা করা হচ্ছে এক মানুষরূপী দেবতাকে।
