ভোটগ্রহনের দিন যে কয়েকটি ভোটগ্রহন কেন্দ্রকে এবং ওয়ার্ডকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে ছিল তার মধ্যে অন্যতম কলকাতার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড। কলকাতা পুরভোটের ফলপ্রকাশের পরে কলকাতাজুড়ে সবুজ ঝড়ের মাঝেই ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হলেন কংগ্রেসের সন্তোষ পাঠক। যদিও তার এই জয়ী হওয়ার খবর ঘোষনা হওয়ার পরেই তৃণমূল ও কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতেই দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পুলিশ। ভোটের দিনও উত্তপ্ত হয়েছিল এই ওয়ার্ড। ওই রাতে সন্তোষকে নগ্ন করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সব কিছু ছাপিয়ে গিয়েই কার্যত শুন্য হওয়ার হাত থেকে কংগ্রেসকে রক্ষা করলেন সন্তোষ।
{link}
বিধানসভা নির্বাচনে একটি আসন না পেলেও, পুরসভা নির্বাচনে জয় পেল কংগ্রেস। ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হলেন সন্তোষ পাঠক। এর পরেই কংগ্রেস ও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। জানা গিয়েছে, এদিন পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী শক্তি সিং যখন সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেই সময় তাঁকে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। এনিয়ে তৃণমূল এবং কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছয়। পুলিশ শক্তিকে সরিয়ে নিয়ে যায়। শক্তির দাবি, হেনস্থার ঘটনায় যুক্ত রয়েছেন সন্তোষের ছেলে সহ একাধিক কংগ্রেস কর্মী।তাঁদের গ্রেফতারির দাবি তোলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।
প্রসঙ্গত, ভোটের দিনও বিবাদী বাগ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। এই ওয়ার্ডটি ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যেই পড়ে। সেদিন এক ভুয়ো ভোটারকে ধাওয়া করে গিয়ে ধরে ফেলেন সন্তোষ। তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আগেই চম্পট দেয়। ওই রাতেই সন্তোষকে নগ্ন করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায়ও নাম জড়ায় শাসকের।
{link}
২০১০ ও তার পরের ভোটেও ওই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন সন্তোষ। বাম জমানায়ও তিনি ছিলেন অপরাজেয়। ২০০৫ সাল থেকে ওই ওয়ার্ডে জিতে আসছেন তিনি। এবারও ধরে রাখলেন জয়ের ঘোড়া। হ্যাঁ, ভুয়ো ভোটারকাণ্ডের পরেও! একেই বোধহয় বলে দুঁদে রাজনৈতিক নেতা। পরাজয় কাকে বলে, সেই অর্থ বা স্বাদ জানতেই শেখেননি তিনি। এখন ভবিষ্যতে মানুষের তার উপর করা এই আস্থার দাম তিনি রাখতে পারেন কি না, তাই দেখার বিষয়।

