ময়দানে লড়াই শেষে আজ সেই লড়াইয়ের ফলাফল প্রকাশের দিন। সকাল থেকে শুরু হয়েছে ভোটগণনা। যা নিয়ে বিপুল উৎকণ্ঠার মধ্যে দিয়ে সময় কাটান রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বেরা। বিপুল ভিড় চোখে পড়ে সমস্ত পার্টি অফিসগুলিতে। কিন্তু এ কার্যত অন্য ছবি ধরা পড়ছে রাজ্যের বিরোধী শিবিরের পার্টি অফিসে। কোথায় গমগম করবে পার্টি অফিস, তা নয় খাঁ খাঁ করছে বিজেপির কলকাতার সদর দফতর। এদিন সকাল থেকে বেশ কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলেও, সদর দফতরে দেখা গেল না বিজেপির কোনও হেভিওয়েট নেতাকেই। যার জেরে ছড়িয়েছে গুঞ্জন। তাহলে কী হার নিশ্চিত বুঝেই বহু আগেই ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছেন নেতারা? উঠছে প্রশ্ন।
নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২০তে। কোভিড পরিস্থিতির কারণে ভোট হল তারও এক বছর পর। প্রত্যাশিতভাবেই কলকাতা পুরসভার ভোট নিয়ে কৌতূহল ছিল রাজ্যবাসীর। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে লক্ষ্যপূরণ হয়নি। পুরসভায় হয় কিনা, সেদিকেই তাকিয়েছিলেন তাঁরা। তবে সে ভরসা যে বিশেষ নেই, তা বলে দিচ্ছে এদিন সকাল থেকে মুরলী ধর সেন লেনে বিজেপির সদর দফতরের ছবিটাই।
{link}
ঠিক দুদিন আগে ভোটের দিনও গমগম করেছিল পার্টি অফিস। শাসক দলের বিরুদ্ধে গুচ্ছের অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থও হয়েছিলেন বিজেপি নেতারা। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোটে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে বিজেপি। তবে গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ কানে তোলেনি কমিশন। এর পরেই বিজেপি বলতে থাকে কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে জয় হবে ছাপ্পার। পুরভোট নিয়ে তারা যে আশাবাদী নয়, তাও জানিয়ে দেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা।
মঙ্গলবার কয়েক রাউন্ড ভোট গণনা শুরুর পর পরই স্পষ্ট হয়ে যায় তৃণমূল জিতছে। সম্ভবত সেই কারণেই এদিন ফাঁকা ছিল বিজেপির পার্টি অফিস। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এটাই আশ্চর্য ঘটনা যে বিরোধীরা কয়েকটা আসনে এগিয়ে আছে। যেভাবে ভোট হয়েছে, তাতে তো জানি ১৪৪ আসনে জিতবে। তিনি বলেন, যেভাবে নির্বাচন কমিশন মানুষের সামনে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, যেভাবে পুলিশ কমিশনার বললেন শান্তপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে, তাতে এই ফল অত্যন্ত স্বাভাবিক।
{link}
অর্থাৎ এখন বিরোধী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে আদৌ অনুষ্ঠিত হয়নি কলকাতা কর্পোরেশনের ভোট। তারই প্রতিফলন আজকের এই ছবি। যদিও তাদের এই বক্তব্যে বিন্দুমাত্রও কর্নপাত করছেন না তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা। তারা এখন মেতেছেন আনন্দউল্লাসে। আজকের এই বিপুল জয়ের প্রতিটা মুহুর্ত উপভোগ করছেন তারা।
