নির্বাচন জুড়ে সর্বত্র উড়ছে সবুজ আবির। যেদিকেই চোখ পড়ছে দেখা যাচ্ছে শুধুই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের উল্লাস। আজকের কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের পর লালবাড়ির রং কার্যত হয়ে উঠেছে সবুজ! ১৪৪টি আসনের মধ্যে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়েছে তৃণমূল। এবার মেয়র নির্বাচনের পালা। মেয়র হওয়ার দৌড়ে উঠে আসছে মালা রায়, অতীন ঘোষ, দেবাশিস কুমার এবং ফিরহাদ হাকিম-এর নাম। তবে ঠিক কার মাথায় উঠবে মেয়রের তাজ, সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন।
মেয়র পদে বসানো হতে পারে মালা রায়কে। তিনি অভিজ্ঞ কাউন্সিলর। সাংসদও। মমতার গুডবুকে যে অল্প কয়েকজনের নাম রয়েছে, তাতে জায়গা পেয়েছেন মালা। তাছাড়া তাঁকে মেয়র পদে বসিয়ে চমক দিতে পারেন তৃণমূল নেত্রী। কারণ মালা ওই পদে বসলে কলকাতা পাবে মহিলা মেয়র।
{link}
মেয়র পদে বসানো হতে পারে অতীন ঘোষ কিংবা দেবাশিস কুমারকে। দেবাশিস দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর। তাঁর মেয়ে অভিনেত্রী। তৃণমূলের হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন। তাই দলে ইদানিং তাঁর গুরুত্ব কিঞ্চিত বেশি। সেই কারণে মেয়র পদে বসানো হতে পারে দেবাশিসকে। অতীন ঘোষ বহু পুরানো কাউন্সিলর। তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে তাঁকে দেওয়া হতে পারে মেয়রের পদ।
{link}
তবে মেয়র পদে বসার সব চেয়ে বেশি সম্ভাবনা ফিরহাদ হাকিমের। কলকাতা পুরসভায় দীর্ঘদিন মেয়র পদে ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। শোভন সরে যাওয়ার পর ওই পদে বসানো হয় ফিরহাদকে। ফিরহাদ দীর্ঘদিনের বিধায়ক। কয়েক বছর ধরে তিনিই সামলাচ্ছেন মেয়রের দায়িত্ব। মমতার ঘনিষ্ঠ বৃত্তেও রয়েছেন তিনি। করোনা-কালে তিনিই দক্ষ হাতে সামলেছেন যাবতীয় দায়-দায়িত্ব। বন্দর এলাকার সাতটি ওয়ার্ডই তিনি তুলে দিয়েছেন তৃণমূলের হাতে। ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি জয়ীও হয়েছেন বিপুল ভোটে। ফিরহাদ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তাঁকে মেয়র করা হলে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক অটুট থাকবে। সব মিলিয়ে মমতার অনুগত ফিরহাদের মাথায়ই উঠতে পারে কলকাতা পুরসভার মেয়রের তাজ বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদদের একাংশ।
{link}
তাহলে কি আসন্ন সময়ে ফের ফিরহাদই হয়ে উঠতে চলেছেন কলকাতা পুরসভার নতুন মেয়র? সেই সম্ভাবনাই বিপুল। যদিও তিনি ছাড়া এই কজনের মধ্যে থেকে অন্য কেউ মেয়র পদে বসলেও খুব বেশি অবাক হওয়ার মতো কিছু হবে না। কারন প্রত্যেকেই কার্যত কলকাতার রাজনৈতিক মহলের চেনা মুখ।
