তথাগত ঘোষ, কলকাতা: ২৬ -এর বিধানসভা নির্বাচনে পতন ঘটেছে তৃণমূল সরকারের। ক্ষমতায় এসেছে পদ্ম শিবির। সরকারের বদলে চলতি বছরে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজোকে ঘিরেও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে একাধিক পুজোর ভবিষ্যৎ ঘিরে উঠেছে প্রশ্ন। মূলত তৃণমূল নেতাদের হাত ধরেই যে সমস্ত পুজোর খ্যাতি বেড়েছে সেই পুজোগুলির এবার কি হবে তাই নিয়েই বিস্তর প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়েছে। এই পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম টালা প্রত্যয়। একাধিক অভিযোগের কারণে রীতিমতো ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল টালা প্রত্যয়ের পুজোর ভবিষ্যৎ ঘিরে। পুজোপ্রেমীদের একটি বড় অংশ প্রশ্ন করছিলেন, আদৌ টালা প্রত্যয়ে পুজো হবে তো?
প্রশ্নের উত্তর মিলল সোমবার। পুজো হচ্ছে টালা প্রত্যয়ে। পুজো কমিটির ফেসবুক পেজে ঘোষণা করা হয়েছে খুঁটি পুজোর দিন। যদিও কমিটিতে কী পরিবর্তন হয়েছে সেই বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। এদিন প্রথমে টালা প্রত্যয়ের ১০১ বছরের পুজো নিয়ে একটি ছবি পোস্ট করা হয়। সেই থেকেই একটি জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে শিঘ্রই চলতি বছরের পুজো সম্পর্কে ঘোষণা আসতে পারে। জল্পনা সত্যি হয় কয়েক ঘন্টা পরেই। পরবর্তী পোস্ট আসে খুঁটি পুজোর ঘোষণা নিয়ে।
‘নব আনন্দে জাগো আজি নববিকিরণে’ শিরোনাম সহ একটি ছবিতে জানানো হয়েছে, আগামী বুধবার অর্থাৎ, ৫ ই আগস্ট টালা প্রত্যয়ের খুঁটিপুজো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। টালা প্রত্যয়ের ক্লাবঘরের সামনেই পুজো অনুষ্ঠিত হবে। সেই দিনেই সম্ভবত চলতি বছরে পুজোর থিম ও শিল্পীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে পুজো কমিটির তরফে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে আকর্ষণীয় থিমের কারণে বিপুল খ্যাতি কুড়িয়েছে টালা প্রত্যয়। থিম নির্মাণে কাজ করেছেন ভবতোষ সুতার, সুশান্ত শিবানী পালের মতো শিল্পীরা। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। সরকারের পরিবর্তনের পর পাল্টে যায় ছবি। একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে আসতে শুরু করে পুজো কমিটির বিরুদ্ধে। এই পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ -র বিরুদ্ধে মাঠ দখল করার বিস্ফোরক অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ দায়ের করেন স্বয়ং বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মাঠ দখল করে পুজো হবে না। কিন্তু, সেই একই সময়ে তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, বর্তমান সরকার কোনওভাবেই পুজো বন্ধের পক্ষে নয়। পুজো অবশ্যই হবে। তবে, পুজোর স্থান বদল হতে পারে। সেই অনুসারেই, চলতি বছরে টালা প্রত্যয়ের পুজো কোথায় হয় এবং আদৌ উত্তর কলকাতার এই জনপ্রিয় পুজো এটির জাঁকজমকতা ধরে রাখতে পারে কি না, তার উপর নজর থাকবে শহরবাসীর।
