নিজস্ব সংবাদদাতা: সেনেগালের মতো আফ্রিকান দেশের খেলা মানেই রঙিন গ্যালারি। প্রবল এক আবেগ, উন্মাদনার জোয়ার। পাশাপাশি সারিবদ্ধ হয়ে সমর্থকেরা নেচে চলেছেন একসাথে। দ্বিতীয়ার্ধে তৃতীয় গোল খাওয়ার পর যখন প্রায় বিদায় নিশ্চিত তখনও বুকে বেদনার চিড় দেখা দিয়েছে বই কি। তবে তা পায়ের ছন্দকে থামতে দেয়নি। যুব খেলোয়াড় ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়, দুরন্ত টোটাল ফুটবল। প্রত্যাশামতোই আফ্রিকান কানট্রি সেনেগাল কে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটে যায়গা দখল করে নিল ইংল্যান্ড। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে ৩-০ গোলে জয়লাভ করেছে গ্যারেথ সাউথগেটের দল। ম্যাচের প্রথম গোল করেন জর্ডন হেন্ডারসন, দ্বিতীয় গোল অধিনায়ক হ্যারি কেন ও শেষ গোল করেন বুকোয়ো সাকা। খেলায় বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন জুড বেলিংহ্যাম।
আজকের খেলায় যে একটি টানটান লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তা কেউ উড়িয়ে দিতে একেবারে পারেননি। শুরুটাও ভালোই করেছিল সেনেগাল। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ এসেছিল এই আফ্রিকান দেশের কাছে। তাদের যুব প্রতিভা ইসমাইলা সার সুযোগ পেয়েও বল উড়িয়ে দেন গোলের উপর দিয়ে। আরেকবার একটি দুরন্ত শট আটকে যায় জর্ডন পিকফোর্ডের বাঁ হাতে। সুযোগ এসেছিল, তবে তা কাজে লাগাতে পারেনি সেনেগাল।
অন্যদিকে নিজেদের একটিও সুযোগ এদিন ব্যর্থ হতে দেয়নি ইংল্যান্ড। ৩৮ মিনিটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেন মিডফিল্ড থেকে বল পেয়ে বাঁ দিকে বাড়িয়ে দেন বেলিংহ্যামকে। তিনি বেশ কিছুটা সামনে এগিয়ে পাস দেন হেন্ডারসনকে। বাঁ পায়ে চলতি বলেই শট নিয়ে গোল করেন হেন্ডারসন। দ্বিতীয়ার্ধেই একদম শেষ লগ্নে আরও একটি গোল পায় ইংল্যান্ড। কাউন্টার অ্যাটাকের একটি দুরন্ত উদাহরন তৈরি করে বল জালে জড়িয়ে দেন হ্যারি কেন। মাঝ মাঠ থেকে দুরন্ত উঠে আসা বেলিংহ্যামের পাস থেকে ফিল ফোডেনের পায়ে যায় বল। সেই ফোডেনের নিখুঁত পাস জালে জড়াতে ভুল হয়নি ইংল্যান্ডের অধিনায়কের। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে তৃতীয় গোল করে ইংল্যান্ড। এবারেও সেই ফোডেন ম্যাজিক। তার বাঁ প্রান্ত থেকে ক্রস করে বাড়ানো বল গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে দুরন্ত শটে গোললাইন টপকে দেন সাকা।
আজ মাঠে পাসিং, প্রেসিং, কাউন্টার অ্যাটাক সব ক্ষেত্রেই চোখে পড়ল ইংল্যান্ডের দক্ষ ফুটবল। এই বছর চ্যাম্পিয়ানসিপের অন্যতম দাবিদার থ্রি লায়নসের এই দল। অন্যদিকে সাদিও মানে-হীন সেনেগালকে আজ সেইভাবে লড়াইয়ে দেখাই গেল না। আরও একটি বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হল এক আফ্রিকান দেশের। পরবর্তি পর্বে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।
