খেলার সময় ৮৮ মিনিট, ম্যাচে তখনও ২-০ গোলে গ্রানাডার কাছে পিছিয়ে বার্সেলোনা। একাধিক অ্যাটেকেও খোলা সম্ভব হয়নি গোলের মুখ, বেশ কয়েকটি শট ফিরে এসেছে বারে লেগে। এহেন অবস্থায় অধিকাংশ বার্সা সমর্থকই ধরে নেবেন কোয়ার্টার ফাইনালেই বার্সেলোনার কোপা দেল রে টুর্নামেন্টের দৌড় শেষ। কিন্তু তার পরেই নজিরবিহীন প্রত্যাবর্তনের এক দৃশ্য মাঠে তুলে ধরন কোম্যানের বার্সেলোনা। ৮৮ মিনিট ও অ্যাডেড টাইমে পরপর করা দুটি গোলে ম্যাচে দুরন্ত কামব্যাক করে গ্রিজম্যানরা। যার ফলে নির্ধারিত সময়ের পর খেলা গড়ায় বাড়তি সময়ে। শেষে ৫-৩ ফলাফলে ম্যাচ জিতে ন্যায় বার্সেলোনা।
প্রথমার্ধের ৩৩ মিনিটে উমতিতির একটি ভুলের সুযোগ নিয়ে গ্রানাডাকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেয় কেনেডি। পরে দ্বিতীয়ার্ধের খেলার শুরুতেই আবার ৪৭ মিনিটের মাথায় গোল করে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় গ্রানাডা। কার্যত ম্যাচে বার্সেলোনাকে আটকানোর একটি অনবদ্য ডিফেন্স স্ট্রাটেজি নিয়েছিল গ্রানাডা। বার্সেলোনার প্রত্যেকটি অ্যাটাকের সময় সামনে ডিফেন্সে ক্লোজ লাইন গড়ে রেখেছিল গ্রানাডার প্লেয়াররা, এবং পায়ে বল পড়লেই সামনে থেকে দুজন পায়ে লেগে পড়ছিল, তার উপর অনবদ্য গোলকিপিং করছিলেন গ্রানাডার গোলকিপার। যার ফলে কিছুতেই গোলের মুখ খুলতে সক্ষম হচ্ছিলেন না বার্সোলানার স্ট্রাইকিং লাইন আপ। কিন্তু আরো একবার মেসি প্রমান করলেন কেন তিনি এত বড় মাপের একজন ফুটবলার। গোল না পেলে কার্যত বার্সার জয়ের পিছনের প্রধান কারিগর মেসিই। মাঝমাঠ ও গোলবক্সের মাঝামাঝি যায়গা থেকে বল মেসির লব করা বলেই খুলে যায় গ্রানাডার ডিফেন্স। সব ডিফেন্ডারের মাথার উপর দিয়ে বল গিয়ে পড়ে গ্রিজম্যানের পায়ে। সেখান থেকেই খেলার ফলাফল ২-১ করেন তিনি। দ্বিতীয় গোলও ঠিক একইভাবে। খেলার এক্সট্রা টাইওমেও চলে দূরন্ত লড়াই। সব মিলিয়ে ৫-৩ গোলে এই জয় কার্যত বার্সেলোনার অন্যতম এক সেরা কামব্যাকের নজির হয়ে থাকবে।
সামনে পিএসজির সাথে চ্যাম্পিয়ান্স লিগে খেলতে চলেছে বার্সা। তার আগে গ্রীজম্যানের ছন্দে ফেরা, মেসির প্লে মেকিং এবং এই দুরন্ত কামব্যাক অবশ্যই বাড়তি কনফিডেন্স প্রদান করবে দলকে। বেশ কয়েকদিন পর যেন সেই পুরোনো বার্সার অদম্য লড়াইয়ের সাক্ষী হল ফুটবলপ্রেমীরা।
