এককথায় ছয় গোলের একটা থ্রিলার, জার্মানি বনাম পর্তুগালের সেই ৯০ মিনিটের থ্রিলারের সাক্ষি থাকল সারা ফুটবলবিশ্ব। খেলা শেষে ৪-২ গোলে এক অবিস্মরনীয় প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ম্যাচ জয় করে নেয় জার্মানি। ইউরো ২০২৯ প্রতিযোগিতার কোন ম্যাচে এর আগে এতোগুলি হয়নি। ম্যাচটিতে দিই পক্ষের লড়াই এককথায় অনবদ্য ছিল। কিন্তু বহুদিন পর জার্মানিকে আবার তার পুরোনো মারাত্মক ছন্দে দেখা গেল। যা অবশ্যই জার্মানির সমর্থকদের মনে একটা বড়ো স্বস্তি জাগিয়ে তুলবে।
{link}
খেলার শুরু থেকেই পর্তুগালের উপর রিতিমত চাপ সৃষ্টি করেছিল জোয়াকিম লো-র জার্মানি। কিন্তু ম্যাচের ১৫ মিনিটে একটি দুরন্ত কাউন্টার অ্যাটাক করে পর্তুগাল। জার্মানির কর্নার থেকে রিবাউন্ড হওয়া বল নিয়ে দুরন্ত দৌড় দেন বার্নার্দো সিলভা। তার বাড়ানো পাস থেকে দিয়গো জটা-র নেওয়া শট নায়ার আটকে দিলেও রিবাউন্ড হয়ে আসা বল জালে জড়িয়ে দেন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। গোলটি করতে মাত্র ১০ সেকেন্ডে পর্তুগালের গোল থেকে জার্মানির গোলবক্সের দৌড় সম্পূর্ণ করেন রোনাল্ডো। যদিও সেই লিড বেশিক্ষন ধরে রাখতে পারেনি তার দল। একের পর এক আক্রমনের ঝড় সামলাতে কার্যত হিমশিম খেয়ে যায় পর্তুগাল। এহেন সময়েই ৩৫ মিনিটে সমতা ফেরায় জার্মানি, তারপর আবার এই গোল হওয়ার ৪ মিনিটের মাথায় ফের গোল করে জার্মানি। যদিও দুটি গোলই হয় আত্মঘাতী গোল। সম্পূর্ণ খেলা ঘুরে গিয়ে ২-১ গোলে লিড ন্যায় জার্মানি। এহেন দুরনত ছন্দে তাদের আবার বেশ কয়েক ম্যাচ পর দেখা গেল। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচে দাপট ধরে রাখে জার্মানি। ৫১ মিনিটে খেলার স্কোর ৩-১ করেন কাই হাভার্থজ। ৬০ মিনিটে ফের গোল করেন রবিন গোজেঞ্জ। কিমিকের বাড়ানো বল কোন মার্কিং ছাড়াই সহজেই জালে জড়িয়ে দেন তিনি। শেষের দিকে পর্তুগাল মারিয়া লড়াই চালায়। একটি গোল প্রতিশোধ দিলেও শেষরক্ষা হয়নি।
{link}
যদিও দুই দলই আরও গোল করার সম্ভাবনা গড়ে তুলেছিল। পর্তুগালের এডের ও জার্মানির গোরেৎস্কার শট বারে লাগে। খেলা শেষ হয় ৪-২ স্কোরে। এই ম্যাচ জেতার ফলে গ্রুপ এফ এ দুই নম্বরে উঠে এলো জার্মানি। শীর্ষে থাকা জার্মানির সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। পর্তুগালের পরের ম্যাচ ফ্রান্সের সাথেই। পর্তুগাল ৩ পয়েন্ট নিয়ে রইল তিন নম্বরে। শেষে থাকা হাঙ্গেরির সংগ্রহ ১ পয়েন্ট। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে দুরন্ত লড়াই করে তা সংগ্রহ করেছে তারা। গ্রুপ অফ ডেথ, সত্যি তাই-ই বটে!
