নিজস্ব সংবাদদাতা: হ্যারি পটার কিংবা, ইংরাজি কাব্যের ফিনিক্স পাখির কথা মনে পড়ে? অনেকটা সেই ছবিই দেখা গেল আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচে। কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয় ম্যাচের সময় তখন ১০১ মিনিট। ৯০ মিনিট অতিক্রম করে অ্যাডেড টাইমের শেষ লগ্নে ২-১ গোলে জিতছে মেসির আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনাল কার্যত নিশ্চিত। কিন্তু চমক সেখানেই। এই শেষ লগ্নেই ফিনিক্স পাখির মতো পুড়ে যাওয়া ছাই থেকে পুনরুত্থান হল নেদারল্যান্ডসের। কার্যত পরাজয়ের দোড়গোড়া থেকে ম্যাচে ফিরে আসে ডাচ রা। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তারপর সেখানেও গোল এলো না কোন তরফেই।
কার্যত আর্জেন্টিনার জেতা ম্যাচ চলে যায় ২০১৪-র ন্যায় টাইব্রেকারে। সেই বার নায়ক হয়ে উঠেছিলেন রোমেরো, এবার নায়ক হয়ে উঠলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। নেদারল্যান্ডসের প্রথম দুটি পেনাল্টিকেই আটকে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক। প্রথম বারেই স্পটকিক মারতে এসে দেশের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে সামলাতে ভুল করেননি মেসি। তৃতীয় শটেই আর্জেন্টিনাকে জয় এনে দিতে পারতেন এনজো ফার্নান্ডেজ। কিন্তু তার শট বাইরে চলে যায়। শেষ ম্যাচে একাধিক গোল মিস করা লাউতারোর কাঁধে এসে পড়ে দলকে জয়ের বিতরনী পার করানোর দায়িত্ব। এইবার আর ভুল করেননি তিনি। তার শটেই সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচে ২-০ গোলে লিড নিয়ে নেওয়ার পরেও ৮৩ মিনিটের পর দুটি গোল হজম করে ম্যাচ হাত থেকে ফক্সে দেওয়ার পর টাইব্রেকারে গিয়ে ম্যাচ জেতা। নিজেরাই নিজেদের জয়ের রাস্তা কঠিন করে ফেলে আর্জেন্টিনা। প্রতিটা আর্জেন্টাইন ভক্তেরই ব্লাড প্রেসার কার্যত হাই হয়েছিল ম্যাচ জুড়ে। কারুর হার্ট তো প্রায় ফেল করতে বসেছিল আর একটু হলে। কিন্তু কথাতেই আছে, শেষ ভালো যার, সব ভালো তাই। কাতারে ব্রাজিলের বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ হলেও আর্জেন্টিনা ও মেসির বিশ্বজয়ের স্বপ্ন এখনও অক্ষত। তা বাস্তবে রূপান্তরিত হতে বাকি আর দুটি পদক্ষেপ....
