অনবদ্য লড়াই, পূজারা, পন্থ, অশ্বিন, হনুমার দাপটে সিডনি টেস্টে ড্র ভারতের।
খেলার মাঠে যে অসম্ভব কিছুই নয়, তা ফের একবার সিডনি টেস্টে প্রমান করল ভারতীয় দল। অস্ট্রেলিয়ার প্রায় জিতে যাওয়া টেস্ট ড্র হয়ে গেল ভারতীয় খেলোয়াড়দের দাপটে। রাহুল দ্রাবিড়ের জন্মদিনে কার্যত দ্যা ওয়াল হয়েই মাঠে দেখা দিলেন হনুমা বিহারী ও রবীচন্দ্রন অশ্বিন। হনুমা বিহারী খেলেছেন মোট ১৬১ টি বল আর রবীচন্দ্রন অশ্বিন খেলেছেন ১২৮ টি বল। দুজনের সংগ্রহে রান যথাক্রমে ২৩ ও ৩৯। এখান থেকেই ঘুরে যায় সিডনির টেস্টের ফলাফল। যার ফলে তৃতীয় টেস্ট ড্র হওয়ার ফলে সিরিজের ফলাফল এখনও ১-১ ই রয়ে গেল।
জিততে গেলে করতে হবে ৩০৯ রান, তার উপর খেলার শুরুর দিকেই ক্যাপ্টেন অজিঙ্কিয়া রাহানের উইকেটের পতন। এহেন অবস্থা থেকে যে ভারত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে হয়ত কোন ভারতীয় সমর্থকই আশা করেননি। রাহানে আউট হয়ে যাওয়ার পর চোট নিয়েই মাঠে ব্যাট করতে নামেন ঋষভ পন্থ। তৃতীয় টেস্টের তার ইনিংসে তার বিরুদ্ধে সমস্ত সমালোচনার জবাব দিয়ে দেন তিনি। মাত্র ৩ রানের জন্য মিস করে যান সেঞ্চুরি। যেখানে অন্য ব্যাটম্যানেরা অজি বোলিং অ্যাটাকের সামনে থরহরি কম্পের মত অবস্থা সেখানেই ঋষভ পন্থ ১১৮ বলে ৯৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে যান তিনি। একদিকে ঋষভের ঝোড়ো ব্যাটিং আর অন্যদিকে পূজারার ডিফেন্সে কাবু হয়ে পড়েন আজি বোলাররা। অন্যদিকে উইকেট পড়তে থাকলেও টেস্ট ক্রিকেটে কেন তাকে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান বলা হয় তা আরো একবার প্রমান করলেন চেতেশ্বর পূজারা। ২০৫ বলে ৭৭ রানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপের মেরুদন্ড সম যোগদান রয়েছে তার। এছাড়া টেস্ট ক্রিকেটে সোমবার ৬০০০ রানও পূর্ন করেছেন তিনি। পূজারা যখন আউট হন তখন স্কোরবোর্ডে রান ২৭২। পূজারা আউট হওয়ার পরে ফের হারের আশঙ্কা তৈরি হয় ভারতীয় শিবিরে। কিন্তু তখনই ক্রিকেটের মাঠে এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ লড়াইয়ের সাক্ষী হয়ে শুরু করে ক্রিকেট বিশ্ব। মাঠে নেমে কার্যত চিত্রটাই পালটে দেন হনুমা ও অশ্বিন। পায়ে হ্যামস্ট্রিং রান নিতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের টান লাগা সত্বেও ক্রিজে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা ধরে লড়াই করেন হনুমা বিহারী। তার আজকের এই ইনিংসের সামনে হয়ত মাথা নত করবে কোন ডবল সেঞ্চুরির ইনিংসও। একই কৃতিত্ব প্রাপ্য অশ্বিনেরও। দুই ব্যাটম্যান মিলে খেলেন ২৯৬ টি বল। অস্ট্রেলীয় বোলিং অ্যাটাক ভাঙতে ব্যার্থ হয় তাদের ডিফেন্স। এই ডিফেন্সেই আজ বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট অনুরাগীদের কাছে গর্বের কারন হয়ে উঠেছে ভারতীয় দলের। এখানেই তো টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য।
হাতে চোট থাকা সত্বেও ঋষভ পন্থের অনবদ্য ব্যাটিং, চেতেশ্বর পূজারা, রবীচন্দ্রন অশ্বিন ও পায়ে হ্যামস্ট্রিং নিয়ে হনুমা বিহারীর এই লড়াইয়ের ফলে কার্যত ঐতিহাসিক ম্যাচ হয়ে দাঁড়ালো সিডনির টেস্ট ম্যাচ। বহু বছর পরেও কঠিন মাঠে কঠিন লড়াইয়ের উদাহারন দিতে গিয়ে ক্রীড়াপ্রেমী মানুষজন উল্লেখ করবেন এই ম্যাচটির। আজকের দিন ক্রিকেটের ইতিহাসে ভারতবাসীদের কাছে এক অন্যতম গর্বের দিন হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। এই ড্র করেও জয়, ভোলার নয়!
