তথাগত ঘোষ, শেফিল্ড টাইমস স্পোর্টস ডেস্ক: রবিবারে সকালে যখন আর্জেন্টিনা ও জর্ডনের ম্যাচ চলছে, একইসময়ে কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রিয়া এবং আলজেরিয়া। ম্যাচের সময় তখন ৯০ মিনিট শেষ হয়ে গিয়েছে। অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়ে গিয়েছে ম্যাচ। তিন মিনিটের মাথায় গোল করে আলজেরিয়া কে এগিয়ে দিয়েছেন রিহাদ মাহারেজ। অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় প্রায় নিশ্চিত। পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছতে গেলে অন্ততপক্ষে ড্র করতেই হবে। নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন যখন প্রায় শেষ, সেই সময়েই অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটালেন সাসা কালাডিচ। পরিবর্ত খেলোয়াড় হিসাবে ৯০ মিনিটে মাঠে নেমে ৯৬ মিনিটের মাথায় করলেন অস্ট্রিয়ার স্বপ্নের গোল। তাঁর হেড দিয়ে করা গোলের সৌজন্যেই ম্যাচ ড্র করে পরবর্তী রাউন্ডের যোগ্যতা অর্জন করেছে অস্ট্রিয়া।
একদিকে যখন অবিশ্বাস্য এই গোলের পর, আনন্দ উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছেন অস্ট্রিয়ার সমর্থকেরা, একই সময়ে ধীরে ধীরে এক মুহূর্তের ধাক্কায় শেষ হয়ে যাচ্ছে ইরানের বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছানোর স্বপ্ন। রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই অদম্য লড়াই সত্ত্বেও নিয়মের বেড়াজালে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘটল ইরানের। আলজেরিয়া কিংবা অস্ট্রিয়া, যে কোনও একটি দেশ জয়লাভ করলে পরবর্তী রাউন্ডে যেত ইরান। কিন্তু, ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্র হিসাবে। আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া, দুই দলই শেষ করেছে চার পয়েন্টে। সেই কারণেই বিদায় ঘটেছে ইরানের। কারণ তাদের মোট পয়েন্ট তিন।
যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশের নাগরিকদের কিছুটা আনন্দের মুহূর্ত উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিশ্বকাপে এসেছিলেন ইরানের খেলোয়াড়েরা। কিন্তু, ফিরে যেতে হল গ্রুপ পর্বের শেষেই। এই ধাক্কা সামলানো কষ্টদায়ক হবে ইরানের খেলোয়াড়দের জন্য। খেলতে গিয়ে তাঁরা যে ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তা অন্য কোনও দলের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। শুরু থেকেই ইরানের সঙ্গে অভব্য ব্যবহার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি, ফিফার তরফেও সেইভাবে সহযোগিতা করা হয়নি। বারংবার অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন ইরানের খেলোয়াড়েরা। এমনকি তাদের অধিকাংশ সাপোর্ট স্টাফেদেরও আসতে দেওয়া হয়নি।
এছাড়াও, ইজিপ্টের বিরুদ্ধে ইরানের ম্যাচে ড্রয়ের ফলাফলও বিতর্কিত। ম্যাচের শেষদিকে জয়সূলভ গোল পেয়ে গিয়েছিল ইরান। সেই গোল উদযাপনও করতে শুরু করে দেন সমর্থকেরা। কিন্তু, অফসাইডের ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্তে সেই গোল বাতিল করে দেওয়া হয়। এই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই সরগরম নেটমাধ্যম। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে ইরানের এই বিদায়, ২০২৬ সালের ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের অন্যতম বড় বিতর্কিত অধ্যায় হয়ে রইল।
.jpeg)
