এককথায় যাকে বলে মধুর প্রতিশোধ। শেষবারের চ্যাম্পিয়ান্স লিগ ফাইনালে বায়ার্নের কাছে ১-০ গোলে হেরে ফাইনালে ট্রফি হাতছাড়া করতে হয়েছিল প্যারিসকে। এবারে কোয়ার্টার ফাইনালের মুখোমুখী এই দুই হেভিওয়েট দল। ম্যাচের নায়ক একাই সেই ফ্রান্সের ওয়ান্ডারকিড কিলিয়ান এমবাপে। এমবাপের জোড়া গোলের সৌজন্যেই বায়ার্নের ঘরের মাঠে বায়ার্নকে প্রথম লেগে ৩-২ গোলে পরাজিত করল পিএসজি।
{link}
সবমিলিয়ে কালকে রাতে ম্যাচে একটা ৫ গোলের থ্রিলারের সাক্ষি থাকল ফুটবল বিশ্ব। অন্যতম সেরা লড়াইয়ের সাক্ষী থেকেছেন অনেকেই বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত। ম্যাচের শুরুতেই ৩ মিনিটের মাথায় নেইমারের অ্যাসিস্টে গোল করে প্যারিসকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেয় এমবাপে। তারপরে একাধিকবার আক্রমন করলেও প্যারিসের গোলকিপার নাভাসকে পরাস্ত করতে ব্যার্থ হয় বায়ার্নের আক্রমনভাগের খেলোয়াড়রা। এর মধ্যেই আবারও এক কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করে প্যারিসকে ২-০ গোলের লিড এনে দেয় মার্কুইনহোস। তারপরেই এই মরশুমে প্যারিস থেকে বায়ার্নে আসা চুপে মোটিং এর দুরন্ত হেডে ৩৭ মিনিটের মাথায় ম্যাচের স্কোর ২-১ করে বায়ার্ন। ২-১ স্কোরে খেলা শেষ হয় হাফটাইমে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের জন্য ঝাঁপায় বায়ার্ন। একের পর এক আক্রমন আছড়ে পড়তে থাকে পিএসজির ডিফেন্সে। দুরন্ত ছন্দে দেখা যায় বায়ার্নকে। এহেন সময়েই ফ্রিকিক থেকে জসুয়া কিমিকের বাড়ানো বল নিখুঁতভাবে হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন টমাস মুলার। খেলার স্কোর হয়ে দাঁড়ায় ২-২। ২-০ গোলের লিড হারিয়ে ফেলে পিএসজি। এই সময়েই যেভাবে আক্রমন করছিল হানসে ফ্লিকের দল মনে হচ্ছিলে যে কোন সময় তারা খেলার ফলাফল ৩-২ করে ফেলতে পারে। কিন্তু এহেন সময়েই আরো একটা আক্রমন প্রতি আক্রমনের মাঝে কাউন্টার অ্যাটাকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে ম্যানুয়েল নয়ারকে পরাস্ত করে খেলার স্কোর ৩-২ করেন কিলিয়ান এমবাপে। যোগ্য খেলোয়াড় হিসেবেই ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন ফ্রান্সের এই যুব তারকা।
কালকের ম্যাচের ৬৪ শতাংশ বল পজিশন ছিল বায়ার্নের কাছে। সারা ম্যাচে কিমিকরা আধিপত্য বজায় রাখলেও কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলেই বাজিমাত পচেতিনোর। অন্যদিকে কালকের ম্যাচে কোথাও একটু হলেও লিওয়ানডোস্কি ও গিন্যাব্রির অভাব চোখে পড়ছিল বায়ার্নের খেলায়। দুটো টিমই নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়াই করেছে সেকথাও খেলা দেখে স্পষ্ট। কাল বায়ার্নকে কিছুটা হলেও ভুগতে হয়েছে ডিফেন্সের জন্য, অন্যদিকে প্যারিসের ডিফেন্স বেশ অনেকটা সঙ্গবদ্ধ দেখিয়েছে। দুরন্ত প্রদর্শন করেছেন দানিলো। অন্যদিকে লিগের এর আগের শেষ ম্যাচে প্যারিসের হোমেই বেশ কিছুটা চেপে ধরেছিল বার্সা। সেই দিক থেকে আবারও একটা দুরন্ত লড়াইয়ে সম্ভবনা রয়েছে দ্বিতীয় পর্বে। কিন্তু বায়ার্নকে অ্যাওয়ে প্যাচে পরাস্ত করার কারনে অ্যাওয়ে গোলের লিড ছাড়াও মনোবল তুঙ্গে থাকবে পিএসজির। সব মিলিয়ে সেমি ফাইনালে যে কে কোয়ালিফাই করবে সেকথা অনুমান করা বড়োই কঠিন হবে, কিন্তু লড়াইয়ে পরিস্থিতির দিক থেকে এগিয়ে নেইমাররাই।
