সব প্রতিকূলতা ছাপিয়ে অদম্য ইচ্ছার সাহায্যে নিজের সবটা উজাড় দিয়ে লড়াই করলে যে কঠিনতম যুদ্ধেও জয়লাভ করা যায় তা গতকাল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জিতে আবারও প্রমান করে দিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। আর এই জয় যাদের দাপটে সম্ভবপর হয়ে উঠল তাদের মধ্যে অধিকাংশই যুব প্রতিভা। প্রথম টেস্টে পরাজয়ের পর দেশে ফিরে আসেন বিরাট কোহলি। তারপর একের পর এক চোট পেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যান মহম্মদ শামি, হনুমা বিহারী, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, জসপ্রিত বুমরাহ সহ জাদেজার মতো প্রথম দলের খেলোয়াড়রা। ম্যাচের ভাগ্য এসে পড়ে সম্পূর্নভাবেই যুব খেলোয়াড়দের হাতে। যাদের মধ্যে প্রায় সকলেই ডেবিউ ও করেছেন এই সিরিজেই। সেই পন্থ, সিরাজ, ওয়াশিংটন সুন্দর, সাইনি ও শার্দুল ঠাকুরদের দাপটেই সিরিজ জয় করল ভারত। এককথায় অনবদ্য, অদম্য হার না মনোভাব নিয়ে মাঠে নেমে তাদের করার এই লড়াই যুগ যুগ ধরে মনে রাখবে ভারতীয়রা। আজকের এই যুব প্রতিভাদের হাতেই কি সুরক্ষিত ভারতের ক্রিকেট ভবিষ্যত? অধিকাংশ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে উত্তরটা হ্যাঁ।
জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় চোখের জল দিয়ে লড়াই শুরু হয়েছিল মহম্মদ সিরাজের। তার বোলিংয়ের দাপটেই চতুর্থ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৪ রানে অল আউট হয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। ইনিংসে ৭৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি। অন্যদিকে চতুর্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ৩৬৯ রান চেস করতে নেমে ১৮৬ রানে ৬ উইকেট পড়ে যায় ভারতের। সেখান থেকে ভারতের পরবর্তি উইকেট পড়ে ৩০৯ রানের মাথায়। ভারত মোট রান তোলে ৩৩৬। ষষ্ট উইকেটে শার্দুল ঠাকুর ও ওয়াশিংটন সুন্দরের দুরন্ত লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। তারপর টেস্টের পঞ্চম দিনে ব্যাট হাতে অনবদ্য ইনিংস উপহার দেন শুভমান গিল ও ঋষভ পন্থ। প্রথম দিকে রোহিত শর্মার উইকেটের পতনের পরে চাপে পড়ে থাকা ভারতকে খাদের মুখ থেকে তুলে নিয়ে আসেন শুভমান গিল। মাত্র ৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন তিনি। আর ঋষভ পন্থের ১৩৮ বলে ৮৯ রানের ইনিংসে পরিস্কার হয়ে যায় ভারতের জয়ের রাস্তা। জেতার বাউন্ডারি ও আসে ঋষভের ব্যাট থেকেই। পন্থ মঙ্গলবার টেস্টে দ্রুততম ১০০ রান করে ভেঙে দিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনির রেকর্ড।
কিন্তু ভারতের এই যুব প্রতিভাদের উত্থান কোথা থেকে? কোথা থেকেই বা তাদের মধ্যে এলো অদম্য লড়াইয়ের মনোভাব? ভারতীয় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে অধিকাংশের মতামত এই সমস্ত খেলোয়াড়দের সাফল্যের পিছনে একটা বড়ো অবদান রয়েছে আইপিএলের। আইপিএল শুরু হওয়ার সময় অনেকে বলেছিলেন এই টুর্নামেন্ট লাল বলের খেলাকে বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কিন্তু এখন খেলোয়াড়দের এই ভয়কে জয় করার মনোভাব ও খেলায় গতি এনেছে আইপিএল এর টুর্নামেন্টই বলে মতামত অধিকাংশ ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের। এছাড়াও কালকে ভারতের জয়ের পরে উঠে এসেছে রাহুল দ্রাবিড়ের। প্রত্যেক যুব প্রতিভাই তাদের সাফল্যেই কারন হিসাবে নাম করেছেন “দ্যা ওয়াল”-এর। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুল দ্রাবিড়ের প্রশংসার ঝড় উঠেছে নেটিজেনদের পোস্টে। এখন ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যত যে আবারও দক্ষ আর সুরক্ষিত হাতেই খাকতে চলেছে সে বিষয়ে অনেকেই সম্মতি জানাচ্ছেন চোখ বুজে। ভারতীয় ক্রিকেটের এই যুব প্রতিভারা তাদের এই আশা কতদূর ধরে রাখতে পারেন সেটাই দেখার।

