নিজস্ব সংবাদদাতা: ফুটবল ও সেই খেলার আবেগ, বিশ্বকাপে মঞ্চ ও তার উন্মাদনা যে কি, তা যেন আজও বর্ননা করা সম্ভবপর হয়ে উঠল না। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিট, দর্শকভর্তি স্টেডিয়াম। এক দলের দর্শকদের জার্সির লোগোর উপর শোভা পাচ্ছে চারটি স্টার। বর্তমান ফুটবলের অন্যতম দাপুটে নাম। অন্যদিকে নীল জার্সি পরনে থাকা সমর্থকদের জার্সিতে কোন তারা না থাকলেও দল কে মনপ্রান দিয়ে সমর্থন করে চলেছেন তারা। যদিও পরিস্থিত তখন তাদের অনুকূলেই। জার্মানির বিরুদ্ধে তখন ম্যাচে ২-১ গোলে এগিয়ে ফিফা র্যাঙ্কিং-এর ২৪ নম্বর দল। গোল শোধ দেওয়ার লক্ষ্যে বিপক্ষের গোলবক্সে উঠে এসেছেন ম্যানুয়েল নয়ার। মরিয়া লড়াই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাপানের রক্ষনভাগের কাছে ও দুরন্ত লড়াইয়ের কাছে পরাজিত হতে হল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। দুরন্ত কামব্যাকের সৌজন্য জার্মানিকে হারিয়ে স্বপ্নের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল জাপান।
{link}
ম্যাচে শুরু থেকেই হচ্ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। জার্মানির প্রেসিং ফুটবল বনাম জাপানের কাউন্টার অ্যাটাকিং। শুরুতেই দুরন্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে দেয় জাপান। কিন্তু সেই গোল বাতিল হয়ে যায় অফ সাইডের ফাঁদে পড়ে। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে জাপানের গোলকিপার বক্সের মধ্যে ফাউল করার কারনে পেনাল্টি পায় জার্মানি। বল জালে জড়াতে ভুল করেননি অভিজ্ঞ ইকের গুন্দোয়ান। প্রথমার্ধেও আরও বেশ কিছু সুযোগ আসে জার্মানির কাছে। কিন্তু জাপানের ডিফেন্স ও গোলকিপারের মরিয়া লড়াই বল গোল লাইন টপকাতে দেয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই খেলায় নিজেদের চাপ জার্মানির উপর বাড়াতে শুরু করে জাপান। এক একটি কাউন্টার অ্যাটাক ও মাঝমাঠ সামলাতে রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছিল জার্মানিকে। দুরন্ত গতিতে জাপানের উঠে আসা কাউন্টার অ্যাটাকে রীতিমতো নড়বড়ে দেখাচ্ছিল জার্মানির রক্ষনভাগকে। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে পরিবর্ত হিসেবে নামা রিটসু ডোন সমতায় ফেরায় জাপান কে। প্রথম শট রক্ষা করলেও রিবাউন্ড হয়ে আসা শট আটকাতে পারেননি নয়ার। তবে জাপানের মূল নায়ক, আর এক জন পরিবর্ত হিসেবে নামা খেলোয়াড় টাকুমা আসানো। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে মাঝ মাঠের কাছ থেকে বাড়ানো বল, দক্ষতার সাথে রিসিভ করে দূরন্ত স্প্রিন্ট টেনে ফার্স্ট পোস্টে নয়ার কে পরাস্ত করে আজ জাপানের স্বপ্ন পূরন করেছেন তিনি। তাদের এই জয়, তাদের এই জয় আজীবন লেখা থাকবে জাপান ও এশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে।

