তথাগত ঘোষ, শেফিল্ড টাইমস স্পোর্টস ডেস্ক: হতশ্রী ফুটবল, কিন্তু সেই সমস্তই ঢাকা পড়ে গেল জয়ের আনন্দে। সুইজারল্যান্ড কে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা। যদিও, চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবার এই ম্যাচে সেইভাবে মেসির প্রভাব লক্ষ্যণীয় হয়নি। পরিবর্তে, কিছুটা হলেও মেসির উপর নির্ভরতা কমিয়ে তাঁর বড় অবদান ছাড়াই ম্যাচ জিততে সক্ষম হয়েছে আর্জেন্টিনা। রবিবার ভোরে ম্যাচ শেষ হয়েছে ৩-১ স্কোরলাইনে। যদিও, নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ শেষ হয়নি। পরিবর্তে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ে জুলিয়ান অ্যালভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের করা গোলে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
রবিবার শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচ কে ঘিরে তুঙ্গে ছিল উন্মাদনা। ম্যাচে প্রথম চমক দেয় নীল সাদা ব্রিগেডই। মেসির কর্নার থেকে হেড দিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ম্যাক অ্যালিস্টার। কিন্তু, গোলের পরেই ম্যাচে দাপট হারিয়ে ফেলে আর্জেন্টিনা। বল পজিশনে দাপট দেখাতে শুরু করে সুইজারল্যান্ড। কিন্তু, বল গোললাইন অতিক্রম করাতে পারেননি সুইজারল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা। প্রধমার্ধের শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকে আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণে আরও চাপ বাড়ায় সুইজারল্যান্ড। ৬৭ মিনিটের মাথায় ম্যাচে সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড। একক দক্ষতায় গোল করেন ড্যান ওডয়। বক্সের ডানডিক থেকে ডান পায়ের শটে মার্টিনেজ কে পরাস্ত করে দেন তিনি। ম্যাচে আধিপত্য দেখাতে শুরু করে সুইসরা। কিন্তু, ধাক্কা আসে ৭২ মিনিটে। ফাউলের কারণে প্রথমে পারেদেস কে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। কিন্তু, পরে ভারের পরামর্শে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেই পড়ে গিয়েছিলেন ব্রিল এম্বোলো। সেই কারণে বাতিল হয় পারেদেসের কার্ড, পরিবর্তে এম্বোলোকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এটি ম্যাচে তাঁর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। ফলে, এককথায় লালকার্ড দেখে ম্যাচের বাইরে যেতে হয় তাঁকে। মাঠে দশ জন হয়ে পড়ে সুইজারল্যান্ড।
কিন্তু, মাঠের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের একজন কম প্লেয়ার থাকা সত্ত্বেও খুব বেশি সুবিধা করে উঠতে পারেনি আর্জেন্টিনা। পরিবর্তে সুইজারল্যান্ডের কড়া ডিফেন্সের কাছে বারংবার আটকে গিয়েছে আর্জেন্টিনার আক্রমণ। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলার শেষেও জয় পায়নি আর্জেন্টিনা।
অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে চোখধাঁধানো গোল করেন জুলিয়ান অ্যালভারেজ। বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ে মারা শট বাঁক নিয়ে ঢুকে যায় গোলপোস্টের মধ্যে। দীর্ঘ সময় পর স্বস্তি ফিরে পান আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। ১২০ মিনিটের মাথায় গোল করে সুইজারল্যান্ডের প্রত্যাবর্তনের সমস্ত আশা শেষ করে দেন লাউতারো।
তবে, জয় পেলেও আর্জেন্টিনাকে চিন্তায় রাখবে তাদের ধীরগতির ফুটবল ও আক্রমণে দক্ষতার অভাব। চলতি বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচে আর্জেন্টিনার খেলায় গতির অভাব স্পষ্ট। একাধিক পাস খেললেও সেইভাবে সুযোগ তৈরি করতে পারছেন না খেলোয়াড়েরা। এই বিষয়টি স্কালোনির জন্যও চিন্তার কারণ হতে চলেছে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
