তথাগত ঘোষ, শেফিল্ড টাইমস স্পোর্টস ডেস্ক: রুদ্ধশ্বাস পরিসমাপ্তি। দুরন্ত কামব্যাকে ডিআর কঙ্গো কে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ –র যোগ্যতা অর্জন করল ইংল্যান্ড। জোড়া গোলে ইংল্যান্ডের নায়ক সেই হ্যারি কেন। সম্পূর্ণ ম্যাচ জুড়ে অদম্য লড়াই করেও শেষরক্ষা হল না ডিআর কঙ্গোর। তবে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে কঙ্গোর গোলরক্ষকের আজকের পারফর্ম্যান্স বিশ্বের যে কোনও শীর্ষস্থানীয় গোলকিপার কে টেক্কা দেবে। তিনি ছাড়া অন্যান্য প্লেয়ারদের খেলাও নজর কেড়েছে ফুটবলবিশ্বের। যদিও, অসামান্য কামব্যাকে ম্যাচের শেষ হাঁসি হাঁসল ইংল্যান্ডই।
যদিও, ম্যাচের শুরুটা কোনওভাবেই স্বপ্নের মতো হয়নি থমাচ টুচেলের দলের। পরিবর্তে ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড শিবির। মাত্র ৭ মিনিটের মাথায় ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে থ্রি লায়নস। ডিআর কঙ্গোর হয়ে অসামান্য গোল করেন বাঁ পাশের উইঙ্গার ব্রিয়ান সিপেঙ্গা। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় চ্যান্সেল মেমবার উপস্থিত বুদ্ধির কারণে তৈরি হয় গোলের সুযোগ। তাঁর নিখুঁত পাসের কারণেই অনেকটা সময় পেয়ে যায় ব্রিয়ান। ডান পায়ের প্লেসমেন্টে জোরালো শটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিকফোর্ড কে পরাস্ত করেন তিনি। ম্যাচে এগিয়ে যায় কঙ্গো।
তারপর ইংল্যান্ড একাধিক সুযোগ পেলেও দক্ষতার সঙ্গে তাদের সমস্ত আক্রমণ আটকে দেন লিওনেল মসি। সম্পূর্ণ ম্যাচ জুড়ে সাতটি অব্যর্থ সেভ রয়েছে তাঁর। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ১-০ স্কোরলাইনেই। দ্বিতীয়ার্ধেও একাধিক আক্রমণ সত্ত্বেও কঙ্গোর গোললাইন অতিক্রম করতে পারছিল না ইংল্যান্ড। ৬১ মিনিটের মাথায় র্যা শফোর্ডের জায়গায় মাঠে আসেন অ্যান্তনিয় গর্ডন। ৭৫ মিনিটে দলকে সমতাত ফিরিয়ে নিয়ে আসেন কেন। অ্যাসিস্ট গর্ডনের। লম্বা লাফ দিয়ে নিখুঁত হেড। প্রথমবারের জন্য ম্যাচে পরাস্ত হলেন কঙ্গোর গোলরক্ষক।
ম্যাচে সমতায় ফিরে আসার পর থেকেই আক্রমণে আরও চাপ বাড়ায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের সময় তখন ৮৬ মিনিট। বেলিংহ্যামের শট সেভ দিয়ে দেন মসি। কিন্তু, বল তাঁর হাতে ধাক্কা লেগে বল ছিটকে এসে পড়ে গর্ডনের পায়ে। গর্ডনের বাড়ানো বল রিসিভ করেন কেন। ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে একটু জায়গা পেতেই গোলের বাঁ দিকের কর্নার লক্ষ্য করে বুলেটের গতিতে ডান পায়ের উঁচু শট। দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষকের। বল আটকানোর কোনও সুযোগই পাননি তিনি। ম্যাচে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের শেষের দিকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি ফ্রিকিক পেয়েছিল কঙ্গো। কিন্তু, বল তেকাঠিতে রাখতে ব্যর্থ হন ইয়ন উইসা। রেফারি ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজাতেই এবারের মতো শেষ হল ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপের স্বপ্ন। কিন্তু, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরাজিত হলেও, তাদের এই অদম্য লড়াই চিরকাল থেকে যাবে ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে।
