তথাগত ঘোষ, শেফিল্ড টাইমস স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ হল নরওয়ের স্বপ্নের দৌড়। ভাইকিংসদের বিদায় ঘটল কোয়ার্টার ফাইনালে। অনবদ্য পারফর্ম্যান্সের হাত ধরে নরওয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে থ্রি লায়নস। ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক জুড বেলিংহ্যাম। খেলা শেষ হয়েছে ২-১ স্কোরলাইনে। যদিও নির্ধারিত সময়ে মীমাংসা না হওয়ার কারণে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়েই ইংল্যান্ডের হয়ে জয়সূচক গোল করেন বেলিংহ্যাম। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর দলকে তিনিই সমতায় ফিরিয়েছিলেন। অপরদিকে, নরওয়ের নায়ক আর্লিং হাল্যান্ডকে এদিন মাঠে সেভাবে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। তাঁকে কার্যত বন্দি করে রেখে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা।
যদিও এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডকে কঠিন লড়াইয়ের মুখে ফেলেছিল নরওয়ে। এমনকি ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল আর্লিং হালান্ডের টিমই। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দিয়েছিলেন স্কলদ্রেউপ। নিজেদের হাফেই কড়া ট্যাকেলে বল ধরে রাখতে পারেননি হ্যারি কেন। অডিগার্ডের তুলে আনা আক্রমণ থেকে বল যায় উইঙ্গার স্কলদ্রেউপের পায়ে। বক্সের বাঁ দিক থেকে নেওয়া তাঁর বাঁ পায়ের শট ক্রস মনে হয়েছিল। কিন্তু সেই বলই পিকফোর্ডকে অতিক্রম করে জালে জড়িয়ে যায়।
ম্যাচের প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে দলকে সমতায় ফেরান জুড বেলিংহ্যাম। গর্ডনের বাড়ানো বল নিয়ে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে কিছুটা ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান তিনি। সেখান থেকেই বাঁ পায়ের শট এবং গোল। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচে সমতায় ফিরে আসে ইংল্যান্ড। হাফটাইমে স্কোর অপরিবর্তিত থেকে যায়। দ্বিতীয়ার্ধেও কোনও গোল না হওয়ার কারণে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের তিন মিনিটের মাথায় অর্থাৎ, ৯৩ মিনিটে সেই বেলিংহ্যামের পা থেকেই আসে ইংল্যান্ডের জয়সূচক গোল। ঠিক যেন গতকাল স্পেন ও বেলজিয়ামের ম্যাচের দ্বিতীয় গোলের পুনরাবৃত্তি। রজার্সের দূরপাল্লার শট নিজের গ্রিপে রাখতে পারেননি নরওয়ের গোলরক্ষক নাইল্যান্ড। রিবাউন্ড হয়ে আসা বল জালে জড়িয়ে দেন বেলিংহ্যাম।
বেলিংহ্যামের এই গোলের হাত ধরেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। টিমের দুরন্ত পারফর্ম্যান্সে আরও একবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা। তবে, চলতি বিশ্বকাপে একটি অনবদ্য পারফর্ম্যান্স উপহার দিয়ে গেল নরওয়ে। তাদের এই লড়াই আজীবন লেখা থাকবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে। এখনও পর্যন্ত এটিই বিশ্বকাপে নরওয়ের সর্বশ্রেষ্ঠ দৌড়। স্মরণীয় হয়ে থাকবে হালান্ডের পারফর্ম্যান্সও।
.jpeg)
