তথাগত ঘোষ, শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ানদের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ফ্রান্স। ফের একবার বিশ্বকাপ আসতেই, ফুটবল মাঠে জ্বলে উঠলেন কিলিয়ান এম্বাপে। এদিন তাঁর জোড়া গোলের সৌজন্যেই Senegal কে ৩-১ গোলে পরাস্ত করেছে দিদিয়ের দেশঁ –র ছেলেরা। প্রথমার্ধে কিছুটা ছন্নছাড়া ফুটবল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত ছন্দে দেখা গিয়েছে ফ্রান্স কে। তাদের আক্রমণভাগ যে এবার বিশ্বকাপ ফুটবলে অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণভাগ হতে চলেছে সেই বিষয়টি আরও একবার নিজেদের পারফর্ম্যান্সে স্পষ্ট করে দিয়েছে France।
যদিও, ম্যাচে শুরু থেকে ভালোই ফুটবল খেলছিল সেনেগাল। অনবদ্য পাসিং, সুন্দর বোঝাপোড়া থেকে আক্রমণে গতি সবই ছিল তাদের খেলায়। প্রথমার্ধের খেলায় বেশ কিছূটা দাপটও দেখায় তাঁরা। ২৪ মিনিটের মাথায় নিকোলাস জ্যাকসনের শট পোস্টে লাগে। বল আটকাতে ঝাঁপ দেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক। কিন্তু, সেই বলই পোস্টে ধাক্কা খেয়ে গোলকিপারের পায়ে লেগে গোললাইন অতিক্রম করে যেতে পারত। অল্পের জন্য পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায় ফ্রান্স। প্রথমার্ধে অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষলগ্নে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পান ইসমাইলা সার। কিন্তু, তেকাঠির মধ্যে বল রাখতে ব্যর্থ হন তিনি। বল বারপোস্টের উপর দিয়ে গ্যালারিতে চলে যায়। বলটি গোলে রাখতে পারলে প্রথমার্ধের শেষে এগিয়ে যেতে পারত সেনেগালই। কিন্তু, প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্যভাবেই।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই চাপ বাড়াতে শুরু করে ফ্রান্স। বলের দখল নিয়ে নেয় ফ্রান্সের খেলোয়াড়েরা। ৫২ মিনিটে গোলের সুযোগও আসে ফ্রান্সের কাছে। বক্সের ডানদিকে বল টেনে নিয়ে দিয়ে বাঁ পায়ে গোলের লক্ষ্যে শট মারেন মাইকেল ওলিসে। কিন্ত, ক্ষিপ্রতার সঙ্গে সেই শট আটকে দেন সেনেগালের গোলকিপার মেন্ডি। ৫৫ মিনিটের মাথায় একইভাবে দলকে পিছিয়ে পড়ার হাত থেকে বাঁচান ফ্রান্সের গোলরক্ষক। তার কিছুক্ষণ পরেই বক্সের মধ্যে গোল করার সুযোগ পান কিলিয়ান এম্বাপে। কিন্তু, এবারেও তিনি সেনেগালের গোলরক্ষক কে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন।
৫৭ মিনিটের মাথায় গোল লক্ষ্য করে তীব্র গতিতে দৌড় দেন এম্বাপে। তাঁকে আটকাতে গিয়ে বক্সের মধ্যেই ফাউল করে বসেন সাদিও মানে। স্লাইডিং ট্যাকেলে বল স্পর্শ করতে পারেননি তিনি। পরিবর্তে সোজা ট্যাকল করেন তিনি। বক্সের মধ্যে পড়ে যান এম্বাপে। তবে, সেইভাবে শক্তিশালী ট্যাকল হয়নি যা পড়ে যাওয়ার মতো। কিছুটা ইচ্ছাকৃত পড়ে গিয়েছেন এম্বাপে বলে সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। পেনাল্টি হাতছাড়া হয় ফ্রান্সের।
অবশেষে ৬৫ মিনিটের মাথায় আসে গোল। ওলিসের ডিফেন্স চেরা পাস এবার আর গোললাইন অতিক্রম করাতে ভুল করেননি এম্বাপে। ডান পায়ের দক্ষ শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ফ্রান্সের গোলের কিছুক্ষন পরেই দক্ষ শটে গোল করেন সেনেগালের ইসমাইলা সার। কিন্তু, সেই গোল অফসাইডে বাতিল হয়ে যায়। ৮২ মিনিটে দলকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নামা বারকোলা। আদ্রিয়ান র্যা বিয়োট -এর বাড়ানো বল দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে আসা মেন্ডির মাথার উপর দিয়ে চিপ করে দেন তিনি। বল গোললাইন অতিক্রম করে জড়িয়ে যায় জালে।
অতিরিক্ত সময়ের 4 মিনিটে দুরন্ত শটে ফ্রান্সের গোলরক্ষক কে পরাস্ত করেন সেনেগালের ১৮ বছর বয়সী যুব প্রতিভা ইব্রাহিম এমবায়ে। কিন্তু, সেনেগালের সমর্থকদের খুব বেশি সময় সেই গোল উদযাপন করারও সুযোগ দেননি কিলিয়ান এম্বাপে। গোলবক্সের বেশ কিছূটা বাইরে থেকে ডান পায়ে দূরপাল্লার দুরন্ত শটে ফ্রান্স কে ৩-১ গোলে এগিয়ে দেন তিনি। ছবির মতো গোল। ম্যাচ শেষ হয় ৩-১ স্কোরলাইনেই।
শেষবার আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হয়েছিল ফ্রান্সের। সেই ক্ষতপূরণের লক্ষ্যেই ছাব্বিশে মাঠে নামল ফ্রান্স। প্রথম ম্যাচ থেকেই দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন খেলোয়াড়েরা। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একাধিক শক্তিশালী নতুন যুব ফুটবল প্রতিভার নাম। বড় অঘটন না ঘটলে চলতি বিশ্বকাপে লম্বা রেসের ঘোড়া হতে চলেছে ফ্রান্সের টিম।

