তথাগত ঘোষ, শেফিল্ড টাইমস স্পোর্টস ডেস্ক: চলতি বিশ্বকাপে কার্যত অপরাজেয় টিম হয়ে উঠেছিল ফ্রান্স। বিশ্বকাপের ট্রফি কোন দেশ নেবে তার থেকেও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছিল ফ্রান্সের এই দুর্ধর্ষ টিম কে কে আটকাবে? প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। একইসঙ্গে পাওয়া গিয়েছে ২০২৬ সালের ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের প্রথম ফাইনালিস্ট দেশের নাম। দুটো প্রশ্নের উত্তর একটাই, স্পেন। এমবাপে, ডেম্বেলেদের অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্স কে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইউরো চ্যাম্পিয়ানরা। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল শেষ হয়েছে ২-০ স্কোরলাইনে। ২০১৪ –র পর আরও একবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে তিকি-তাকার দেশ।
প্রসঙ্গত, এদিন প্রথম একাদশ অপরিবর্তিত রেখেই দল সাজিয়েছিলেন ডে লা ফুয়েন্টে। অপরদিকে ফ্রান্সের প্রথম একাদশে জায়গা হয়েছিল চুয়ামেনি এবং বারকোলার। তবে, এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই অসম্ভব সুন্দর ফুটবল খেলতে শুরু করে স্পেন। ফুটবলের ভাষায় এককথায়, ‘দ্য বিউটিফুল গেম’। নিখুঁত পাসিং, দক্ষ বল কন্ট্রোল, দ্রুত ইন্টারসেপশন, কড়া ডিফেন্স থেকে টাইট ম্যানমার্কিং সবই ছিল তাদের খেলায়। এমবাপে, দেম্বেলেরা ম্যাচের শুরুতেই বুঝে যান, লড়াই সহজ হবে না।
যদিও, এদিন ম্যাচে স্পেনের প্রথম গোল আসে পেনাল্টি থেকে। পেনাল্টি অর্জনের ক্ষেত্রে লামিন ইয়ামালের তারিফ না করে উপায় নেই। কুকুরেয়ার বাড়ানো ক্রস প্রথমে বুকে রিসিভ করেন ফ্রান্সের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ডিগনে। ইচ্ছা ছিল তারপরেই বল ক্লিয়ার করে দেওয়া। কিন্তু, আচমকাই পিছন থেকে ছুটে এসে বলের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন লামিন। লামিন বল পান আর তাঁর গায়েই শট মেরে বসেন ডিগনে। এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। বল জালে জড়িয়ে দিতে ভুল করেননি মিকেল ওয়্যারজাবাল। ম্যাচে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। প্রথমার্ধে আর কোনও গোল হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫৮ মিনিটে স্পেনের দ্বিতীয় গোল করেন পেদ্রো পোরো। ড্যানি ওলমোর পা থেকে বেরিয়ে আসা বল বক্সের মধ্যে একেবারে ফাঁকা জায়গায় পেয়ে যান পেদ্রো। ডান পায়ের শটে পরাস্ত করে দেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক কে। শেষ পর্যন্ত তাঁর এই গোলটিই দলের জন্য জয়সূচক গোল হয়ে দাঁড়ায়। যদিও, অফসাইডে লামিন ইয়ামালের গোল বাতিল না হলে স্পেনের জয়ের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
তবে, এককথায় বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে নিজেদের পারফর্ম্যান্সে কার্যত তাক লাগিয়ে দিয়েছে স্পেন। স্পেনের এই অনবদ্য ফুটবলে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্ব। তারকাখচিত ফ্রান্সের টিম কে তারা কার্যত এদিন সেভাবে মাঠে দাপট দেখানোর সুযোগই দেয়নি। গোলে শট নেওয়ার মতো সুবিধাজনক জায়গাই পায়নি ফ্রান্সের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা। এখন আবার ইনিয়েস্তা, র্যা মোসদের রূপকথার পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন স্পেনের সমর্থকেরা। ফাইনালে সামনে মেসির আর্জেন্টিনা নাকি হ্যারি কেনের ইংল্যান্ড? উত্তর মিলবে বুধবার রাতে।
