তথাগত ঘোষ, শেফিল্ড টাইমস স্পোর্টস ডেস্ক: চলতি বিশ্বকাপে প্রথম দুটি ম্যাচের জয় অধরা ছিল ইকুয়েডরের। প্রথম ম্যাচে হার ও দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র। ফলে, বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডের যোগ্যতা অর্জন করতে হলে ইকুয়েডরের একমাত্র রাস্তা ছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ান জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচে জয়ী হওয়া। বৃহস্পতিবার রাতে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখালেন ইকুয়েডরের খেলোয়াড়েরা। ৯০ মিনিটের শেষে জার্মানির বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জয়লাভ করেছে ইকুয়েডর। এই অসম্ভবকে সম্ভব করেই বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডের যোগ্যতা অর্জন করেছে তাঁরা।
যদিও, ম্যাচের শুরুটা কোনওভাবেই Ecuador –এর জন্য ইতিবাচক হয়নি। ম্যাচের মাত্র ২ মিনিটের মাথায় বিতর্কিত গোলে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির বিরুদ্ধে এগিয়ে যায় জার্মানি। পাবলোভিচ ইকুয়েডরের প্লেয়ারের মাথার উচ্চতায় পা দিয়ে বল নিজের কাছে টেনে নেন। এখানেই বিতর্ক। তারপর তিনি পাশ বাড়ান রিটজ কে। তাঁর বাড়ানো বলই বা পাঁয়ের নিখুঁত শটে জালে জড়িয়ে দেন Leroy Sane ।
ম্যাচে তারপর খুব বেশি সময় এগিয়ে থাকতে পারেনি জার্মানি। ৯ মিনিটের মাথায় সমতায় ফেরে ইকুয়েডর। এককথায় জার্মানির বিরুদ্ধে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল করে দল কে সমতায় ফেরান নিলসন অ্যাঙ্গুলো। গোলবক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া দুরন্ত শটে পরাস্ত করেন জার্মানির গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার কে। তাঁর ডানপায়ের শটে আসা এই গোল থেকেই পরবর্তী রাউন্ডের যোগ্যতা অর্জনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ইকুয়েডর। ম্যাচে সময় যত এগোয় লড়াই তত হাড্ডাহাড্ডি হতে শুরু করে। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ১-১ স্কোরলাইনেই।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার পর ৪৮ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পায় জার্মানি। কিন্তু, অনফিল্ড রেফারি প্রথমে পেনল্টি দিলেও, ভারের পরামর্শে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা বাতিল করেন। মূলত গোলবক্সে ফাউল হওয়ার আগে মাঝমাঠে জার্মানির খেলোয়াড় সানের করা একটি ফাউলের কারণে পেনাল্টি বাতিল হয়। পরবর্তী চমক আসে ৭৭ মিনিটে। কর্নার থেকে সম্ভবত নিজের ফুটবল জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন গঞ্জালো প্লাটা। কর্নারে আসা বল কেভিন রদ্রিগেজের হেডের মাধ্যমে সোজা আসছিল ম্যানুয়েল নয়ারের হাতে। কিন্তু, উপস্থিত বুদ্ধি খাঁটিয়ে নয়ারের ঠিক হাতের সামনে পায়ের এক টোকায় বল জালে জড়িয়ে দেন প্লাটা। এই গোলটিই পরবর্তীতে হয়ে ওঠে ইকুয়েডরের পরবর্তী রাউন্ডের চাবিকাঠি।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর চোখের জল বাঁধ মানেনি ইকুয়েডরের একাধিক খেলোয়াড়ের। গ্যালারিতে ইকুয়েডরের অধিকাংশ ফ্যানের চোখও তখন জলে ভরে উঠেছে। স্বপ্নপূরণের রাত! ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের রচনা হল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে।
