তথাগত ঘোষ, শেফিল্ড টাইমস স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে সবচেয়ে বড় অঘটন। নকআউটের প্রথম পর্যায়েই বিদায় জার্মানির। টাইব্রেকারে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ানদের হারিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করল Paraguay। গ্রুপ পর্বে শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরই প্রমাণ করে দিয়েছিল, জার্মানির দলে একাধিক অংশে দুর্বলতা রয়েছে। এবার দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে দিল Germany কে। প্রথমে নাটকীয়ভাবে ম্যাচ ও অতিরিক্ত সময়ের খেলার সমাপ্তি, তারপর টাইব্রেকারেও একের পর এক অবাক করা দৃশ্য। প্রথমে প্যারাগুয়ের গোলকিপারের জোড়া সেভ ও তারপর জোনাথান টায়ের মিসের পর এইবারের মতো বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হল জার্মানির।
টাইব্রেকারের একদম প্রথমেই বড় ধাক্কা খায় জার্মানি। প্রথমেই কাই হাভার্থজের শট আটকে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। তারপর নিক ওল্টেমেডের তৃতীয় শটটিও ক্ষিপ্রতার সঙ্গে রুখে দেন তিনি। তাঁর এই সেভের পরেই পরপর তিনটি পেনাল্টি মেরে জার্মানিকে হারানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে প্যারাগুয়ে। কিন্তু, পরবর্তী শট বাইরে মারেন অ্যান্তনিও সানাব্রিয়া। গোল করে দলকে লড়াইয়ের মধ্যে রাখেন জার্মানির নাদিয়েম আমিরি। পরবর্তীতে ফ্যাবিয়ান ব্যালবুয়েনার শট সেভ দিয়ে দেন নয়ার। দলকে ৩-৩ সমতায় ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। পরপর দুটি শট মিস হয় প্যারাগুয়ের। পাঁচটি শটের পর স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩। মাঠজুড়ে তখন তুঙ্গে উত্তেজনা। টাইব্রেকার গড়ায় সাডেন ডেথ –এ।
এখানেই ষষ্ঠ শট নিতে এসে বল বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন জোনাথান টাহ। জার্মানির প্রত্যাবর্তন ও জয়ের সমস্ত আশা জোর ধাক্কা খায়। ফের চাপে পড়ে জার্মানি। এরপর আর ভুল করেননি প্যারাগুয়ের জোসে ক্যানালে। তিনি যখন ডানদিকে শট মারলেন, নয়ার ততক্ষণে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। বল জালে জড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জয়ী প্যারাগুয়ে।
এই ম্যাচে ৭৫% বল পজিশন ছিল জার্মানির দখলে। খেলা হয়েছে জার্মানির আক্রমণ বনাম প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের। মূলত কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবল খেলছিল প্যারাগুয়ে। কিন্তু, তাদের প্রতি আক্রমণগুলিকে অনেকটাই ভয়ানক দেখাচ্ছিল। জার্মানি ম্যাচের শুরু থেকে একাধিক আক্রমণ করলেও অটুট ছিল প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ। বক্সের ভিতর সেইভাবে জার্মানিকে সুযোগই দেয়নি তাঁরা। ম্যাচের প্রথমার্ধে ৪২ মিনিটে প্রথম চমক দেয় প্যারাগুয়েই। কর্নার থেকে ভেসে আসা বল প্রথমে ক্লিয়ার করে দিলেও, তারপর মাতিয়াস গালারজার ভাসানো বল দক্ষতার সঙ্গে হেড দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন জুলিও এনসিসো। খেলার গতির সম্পূ বিপরীতে গোল। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ স্কোরলাইনেই।
ম্যাচের ৫৪ মিনিটের মাথায় দলকে সমতায় ফেরান কাই হাভার্থজ। ফ্লোরিয়ান রিতজের ভাসানো বল দক্ষতার সঙ্গে হেড দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ৭৮ মিনিটে হাভার্থজের আরও একটি দুরন্ত হেড সেভ দিয়ে দেন গিল। ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ১-১ স্কোরলাইনে। ১০৪ মিনিটের মাথায় জার্মানিকে গোল করে এগিয়ে দিয়েছিলেন টাহ। কিন্তু, ভারের পরামর্শে গোল বাতিল করেন রেফারি। গোলের সময় প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল কে ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখেছিলেন অ্যান্টন। সেই কারণেই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। অতিরিক্ত সময়েও অন্ততপক্ষে তিনবার গিল দক্ষভাবে রক্ষা করেছেন প্যারাগুয়েকে। অতিরিক্ত সময়ের খেলা শেষে সেই গিলই আটকে দিলেন জার্মানির টাইব্রেকারের দুটি শট। জার্মানিকে হারিয়ে এককথায় এই মুহূর্তে স্বপ্নের দুনিয়ায় প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়েরা।
