তথাগত ঘোষ, শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: আর ফুটবল মাঠে সবুজ ঘাসের উপর নীল সাদা জার্সিতে দেখা যাবে না মেসি ম্যাজিক। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলই হয়ে রইল Lionel Messi -র আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ। ডায়রির তিনটি ছেঁড়া পাতায় আন্তর্জাতিক ফুটবল কে বিদায় জানালেন ফুটবলের রাজপুত্র। ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা মেসির। আগস্টের শুরুতেই এবিষয়ে ইঙ্গিত মিলেছিল। শিলমোহর পড়ল সোমবার সন্ধ্যায়। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিভার এই আচমকা ঘোষণায় মন খারাপ আট থেকে আশি সকল ফুটবলপ্রেমীর।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই প্রসঙ্গে ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার। নিজের অবসরের কথা জানিয়ে মেসি লিখেছেন, ‘আমি উপলব্ধি করেছি, সময়য় হয়ে এসেছে।‘ যদিও, মেসির জন্য এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ ছিল না কোনওভাবেই। সম্ভবত বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর গ্রহণের কথা ভাবতে শুরু করেন তিনি। তারপর বাবা জর্জ মেসির অকাল প্রয়াণেই সম্ভবত আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন এলএমটেন।
এই প্রসঙ্গে নিজের বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘ফাইনালের পর অনেকটা সময় কেটে গিয়েছে। অনেক চিন্তাভাবনার পর আমি সকলকে জানাতে চাই যে, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। এই সিদ্ধান্ত আমায় কষ্ট দিয়েছে। এখনও দিচ্ছে। কিন্তু, বুঝতে পারছি এটাই সঠিক সময়। আমি সবসময় জাতীয় দলের জন্য আমার সর্বস্ব দিয়েছি। শেষ কয়েক বচঝর যখন আমরা সবকিছু জিতেছি শুধু তখনই নয়, তার আগেও সবটা দিয়েছি। এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত। সব সময় এই জার্সির জন্য লড়াই করেছি এবং সব কিছু উজাড় করে দিয়েছি। ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে এবং আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় হিসাবে আপনাদের গর্বিত করার চেষ্টা করেছি।
ডায়রির তিন পাতার অবসর বার্তায় আবেগপ্রবণ মেসি এই প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ করেছেন, ‘ফুটবলজীবনের বেশি সময় বাকি নেই। অধ্যায়গুলি শেষ হয়ে আসছে। শেষের এই অধ্যায়টি আমায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে। আমি জাতীয় দলে থাকতে ভালোবাসি। সর্বদা ভালো বেসেছি। জাতীয় দলকে সবসময় ভালো বাসব। আমি আমার সবকিছু দিয়ে দিয়েছি। আমার কাছে আর দেওয়ার মত কিছু নেই। আমাদের কয়েকজন দুর্দান্ত তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে। যারা জাতীয় দলে খেলার যোগ্য।‘
নিজের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে লিও লিখেছেন, ’২০ বছর ধরে আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। মাঠের মধ্যে থেকে আপনাদের কণ্ঠস্বর আর শুনতে পাব না। এই অভাবটা অনুভব করব। এখন থেকে আমিও আপনাদের একজন। মাঠের বাইরে থেকে উৎসাহ দেব, সমর্থন করব। সাফল্য হোক বা ব্যর্থতা, সর্বদা পাশে থাকব।‘
