কলকাতার মাঠে খেলা দেখতে যাওয়া বা খেলা দেখে ফেরার সময় মোহনবাগান সমর্থকদের মুখে প্রায়ই শুনতে পাওয়া যায়, ‘চিরকাল রেলায় আছে থাকবে মোহনবাগান’ গানটি। আজকে খেলার মাঠে নিজেদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যত রেলাতেই খেলা শেষ করল মোহনবাগান। সারা মাঠ জুড়ে খেলায় শুধুই ছিল পালতোলা নৌকার দাপট। শতবর্ষের ডার্বি, আর সেই শতবর্ষের ডার্বিতেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালো সবুজ মেরুন ব্রিগেড। প্রথমার্ধের হওয়া গোলের হাত ধরেই গোয়ার মাঠে ঐতিহাসিক ডার্বিতে ৩-০ গোলে জয়লাভ করল সবুজ মেরুন।
{link}
এদিন ম্যাচের একেবারে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক মেজাজে নামেন সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা। জনি কাউকো, হুগো বুমোস, মনবিন্দর সিং, রয় কৃষ্ণ, লিস্টন কোলাসো, প্রীতম কোটালরা যখন একযোগে আক্রমণে যাচ্ছিলেন, তখন ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ যেন থরহরি কম্পমান হয়ে যাচ্ছিল। সেই নড়বড়ে রক্ষণের সুযোগ নিয়েই ম্যাচের ১২ মিনিটে প্রথম গোল পান রয় কৃষ্ণ। এক্ষেত্রে ডানপ্রান্ত থেকে তাঁকে নিখুঁত পাস বাড়ান মনবিন্দর। মিনিট দুয়েক বাদেই ডানপ্রান্ত জোরাল শটে ফের লাল-হলুদ জালে বল জড়ান মনবিন্দর নিজে। এবারে তাঁকে নিখুঁত পাস বাড়ান সদ্য ইউরো কাপ খেলে আসা জনি কাউকো। ম্যাচের তৃতীয় গোলটি আসে লাল-হলুদ গোলরক্ষক অরিন্দমের ভুলে। এবারে গোল করেন লিস্টন। এরপর প্রথম এবং দ্বিতীয় দুই অর্ধেই ভুরি ভুরি সুযোগ পান সবুজ মেরুন ফুটবলাররা। ফিনিশিং ভাল হলে খেলার ফল আরও লজ্জাজনক হতে পারত লাল-হলুদের জন্য।
{link}
একসময় ইউরো কাপে খেলে আসা যে জনি কাউকো কে নিয়ে হাঁসি ঠাঁট্টায় মেতেছিলেন লাল হলুদ সমর্থকেরা, সেই কাউকো আজ মাঠে নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছেন। তবে একথা স্পষ্ট যে দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক সহজ গোলের সুযোগ হেলায় না হারালে, মোহনবাগান সমর্থকদের ৫-০ স্কোরলাইনের স্বপ্নটাও পূরন হয়ে যেত। সবুজ মেরুন সমর্থকদের আজকের খেলা শেষে আক্ষেপ এটাই হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে যত বড়ো লাল হলুদ সমর্থকই থেকে থাকুন না কেন, আজ তিনি একবাক্যে স্বীকার করবেন যে এতো বিশ্রী ও অগোছালো ফুটবল ডার্বিতে দীর্ঘদিন খেলেনি কোনও দল। সবশেষে আজকের এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার লিগে লড়াইয়ে ফেরাই লক্ষ্য হবে লাল হলুদের। অন্যদিকে এটিকে মোহনবাগানের এখন সেরা সময়, আজ ইস্টবেঙ্গলকে পরাজিত করে তারা লিগ টেবিলের শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে। সমর্থকদের গলা ফেটে বের হচ্ছে, “জয় মোহনবাগান”

