অবশেষে শাপমুক্তি, তাও এক দুই নয় একেবারে চল্লিশ বছর পর। সমর্থকদের চল্লিশ বছরে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কলকাতা লিগের ট্রফি ফিরছে মোহমেডান-এর ট্রফি ক্যাবিনেটে। আজ যুবভারতীতে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের দিকে নজর ছিল কলকাতার একটা বড়ো অংশের ফুটবলপ্রেমী মানুষদের। ময়দানে খেলা দেখতে হাজির হয়েছিলেন আনুমানিক চল্লিশ হাজার দর্শক। দলের সমর্থকদের হতাশ করেননি মোহমেডান খেলোয়াড়েরা। রেলওয়েকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ট্রফি জয় করে নিল সাদা কালো ব্রিগেড।
{link}
খেলার অনেক আগে থেকেই ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা কলকাতা লিগের ম্যাচে এগিয়ে রেখেছিলেন মোহমেডানকেই। সেই কারনেই যেমন জয়ের উপর আত্মবিশ্বাস ছিল তেমনই ছিল একটি বাড়তি স্নায়ুচাপও। যদিও সেই চাপ কে নিজেদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে দেননি মোহমেডান খেলোয়াড়রা। শুরু থেকেই দুরন্ত ফুটবল খেলতে শুরু করে তারা। দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র
মার্কাস ম্যাচের দু মিনিটের মধ্যেই দলকে ১ গোলে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধে আরও সুযোগ এলেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যার্থ হয় কোচ আন্দ্রেই চের্নিশভের ছেলেরা।
যদিও দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচে ফেরার লড়াই করতে শুরু করে রেলওয়ে। খেলা চলতে থাকে সেয়ানে সেয়ানে লড়াইয়ে। বিশেষ করে ম্যাচের শেষদিকে বেশ কয়েকটি সুযোগ পায় রেল। কিন্তু মহামেডান রক্ষণভাগের তৎপরতা এবং গোলরক্ষক মিঠুনের দক্ষতায় গোলমুখ খুলতে ব্যার্থ হয় রেলওয়ের আক্রমণ ভাগের ফুটবলাররা।
{link}
একসময় বাংলার বুকে সবুজ-মেরুন, লাল-হলুদ ও সাদা-কালো এই তিন ব্রিগেড দাপিয়ে বেড়াতো কলকাতা ফুটবলের ময়দানগুলিকে। সময়ের দাপটে আজ মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল শীর্ষ লিগে খেললেও কোথাও গিয়ে ছন্দ হারিয়েছে মোহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব। সেই ছন্দ ফেরানোর লড়াই-ই এখন মরিয়া হয়ে চালিয়ে যাচ্ছে মোহমেডান শিবির। শেষবার সাদা-কালো ব্রিগেড কলকাতা লিগ জিতেছিল ১৯৮১ সালে। তারপর প্রায় ৪০ বছরের অপেক্ষার পর আজ ট্রফি জেতায় কলকাতার বুকে আবারও কিছুটা ছন্দ ফিরে পেলো তারা। কলকাতায় প্রথম দুই প্রধানের পর যে তারাও তৃতীয় স্থানে রয়েছে, রয়েছে তাদেরও অস্তিত্ব তা আজ ফের প্রমান করল কলকাতার এই বিখ্যাত ঐতিহাসিক ক্লাব।
