সম্পূর্ন হল স্বপ্নের দৌড়, ইংল্যান্ডের নয়, একুশের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ফিরছে ইতালির ঘরে। ২০১৮ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যার্থ হয়েছিল ইতালি। এহেন ভেঙে পড়া দল যে পরবর্তী সময়ে বিশ্ব ফুটবলে এইরকম সাড়া ফেলে দেওয়া প্রত্যাবর্তন ঘটাবে তা কে ভেবেছিল? কিন্তু তাই করে দেখিয়েছে রবার্তো মানচিনির ইতালি। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে পেনাল্টি শ্যুট আউটে পরাজিত করে সেই ইতালি এখন ইউরো ২০২০-র নতুন চ্যাম্পিয়ন। টানা ৩৪ ম্যাচের তাদের বিজয়রথ কেউ থামাতে সক্ষম হয়নি।
ঘরের মাঠে খেলার শুরুটা স্বপ্নের মতোই করেছিল ইংল্যান্ড। খেলার একদম শুরুতেই মাত্র ২ মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লিউক শ। ইংল্যান্ডকে শুরুর দিকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। কিন্তু তারপরেই খেলার মাঠে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করতে শুরু করেন ইতালির খেলোয়াড়েরা। ছোট ছোট পাসে সম্পূর্ণভাবে মাঠের দখল নিয়ে নেয় তারাম তবুও ইংল্যান্ডের প্রতিটা প্রতি আক্রমন ভয়াবহ ঠেকছিল ইতালির ডিফেন্সের কাছে। দোদুল্যমান গতিতে চলতে থাকা অবস্থাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
{link}
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের জন্য ইংল্যান্ডের ডিফেন্সে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে ইতালি। ৬৭ মিনিটে বনুচ্চির পা থেকে আসে কাঙ্খিত গোল। পিকফোর্ডের চেষ্টা বল জালে জড়ানো থেকে আটকাতে পারেনি। কর্নার থেকে রিবাউন্ড হয়ে আসা বল জালে জড়িয়ে দেন ইতালির ডিফেন্ডার। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ালেও গোল করতে ব্যার্থ হয় দুই পক্ষই। যার ফলে খেলা গড়ায় পেনাল্টিতে।
পেনাল্টিতে মূলত চলে দুই গোলরক্ষকের লড়াই। পিকফোর্ড ও ডোনারুমা দুই গোলরক্ষকই তেকাঠির নিচে অনবদ্য ছিলেন। কিন্তু র্যাশফোর্ডের শট বারে লাগা এবং তার পাশাপাশি স্যাঞ্চো এবং এক্সহাকার শট ডোনারুমা সেভ দিয়ে দেওয়ায় স্বপ্ন অধরাই রয়ে যায় ইংল্যান্ডের। নিজের দস্তানার সাহায্যে নিজেদের স্বপ্নের কাপ জয়ের ইতিহাস রচনা করেন ডোনারুমা।
{link}
রবার্তো মানচিনির হাত ধরে ইতালির 'ইটস কামিং ব্যাক টু রোম'-এর স্বপ্ন সম্পূর্ণ হল। দ্বিতীয়বারের জন্য ইউরোপ শ্রেষ্ঠর শিরোপা লাভ করল ইতালি। বর্তমানে টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত তারা। স্বপ্নের দৌড় বোধহয় একেই বলে। ২০১৮-এ চোখের জল ফেলা সমর্থকদের কাছে আবার আনন্দ অশ্রু ফিরিয়ে দিয়েছে মানচিনির এই তরুন ইতালি দল। তাদের এই জয় স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে ইউরোর ইতিহাসের পাতায়।
