নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ফুটবলে কিছুই যে অবাস্তব নয়, তা প্রমানিত হল আরও একবার। ইউরো কাপ ২০২০, কার্যত দুরন্ত ফুটবলের প্রদর্শন করে ট্রফি জয় করেছিল রবার্তো মানচিনির ইতালি। টানা ৩৬ ম্যাচের অপরাজিত স্বপ্নের দৌড় সম্পূর্ন করেছিল চিয়েলিনি, বনুচ্চির দল। বর্তমানে ফুটবল জগতের অন্যতম উল্লখযোগ্য ও শক্তিশালী দল ইতালি। ইউরো কাপ জয় করার পর ইতালিকে কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম বড়ো দাবিদার বলে ধারনা করছিলেন ফুটবল বিশেষজ্ঞেরা। কিন্তু সেই ইতালিরই বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন শেষ। আসন্ন কাতার বিশ্বকাপে অংশগ্রহন করবে না রবার্তো মানচিনির ইতালি।
{link}
এই অবিশ্বাস্য কান্ড ঘটিয়েছে নর্থ ম্যাসিডোনিয়া, ইতালিকে তাদের ঘরের মাঠেই ১-০ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে দেশটি। সারা ম্যাচেই নিজেদের দাপট বজায় রেখেছিল ইতালি, বল পজিশন, শটস, কর্নার সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল তারা। কিন্তু কোথাও গিয়ে ভাগ্য সহায় হয়নি ইতালির। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময় চলাকালীন ৯২ মিনিটে অ্যালেকজান্ডার ত্রাজকোভক্সির গোলে অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে মাঠের মধ্যে। বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের নেওয়া শট ডোনারুমাকে পরাজিত করে জড়িয়া যায় জালে। এই মুহূর্তেই কার্যত স্বপ্নভঙ্গ হয় ইতালির। খেলা শেষে বাঁশি বাজার পর মাঠ থেকে কিছু না বলেই বেরিয়ে যান রবার্তো মানচিনি, ভেঙে পড়েন ইতালির ফুটবলাররা। বাস্তবকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই, এটাই ফুটবল। তবে নর্থ ম্যাসিডোনিয়ার খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব সত্যিই অনবদ্য। ইতালির বিরুদ্ধে তাদেরই ঘরের মাঠে যে লড়াই তার দেখিয়েছে তা ঐতিহাসিক। প্লেওফস-এর ফাইনালে সামনে তাদের প্রতিপক্ষ পর্তুগাল।
{link}
২০০৬ বিশ্বকাপ, সেই বছর শেষবার বিশ্বকাপের নক আউট খেলে চ্যাম্পিয়ান হয়েছিল ইতালি। ২০১০ ও ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়। শেষবারের ২০১৮ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যার্থ হয় ইতালি, সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল এইবারেও। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ানদের দেখা যাবেনা আসন্ন বিশ্বকাপে। সামনে পর্তুগাল ও নর্থ মেসিডোনিয়ার মধ্যে কোন দল যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয় তাই দেখার। তবে ইতালির পরাজয়ে যে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর দল কিছুটা হলেও বাড়তি অক্সিজেন পাবে তা স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত কাতারের টিকিট কোন দল অর্জন করতে সক্ষম হয় তাই এখন দেখার।
