ইংরাজিতে এক্সট্রাওর্ডিনারি বলে একটা কথা হয়। স্পেন বনাম ক্রোয়েশিয়ার ইউরো কাপের খেলায় এইরকমই এক টানটান এবং 'এক্সট্রাওর্ডিনারি' ম্যাচের সাক্ষি হয়ে রইল ফুটবলবিশ্ব। এক ম্যাচে গুনে গুনে আটটি গোলের অবিশ্বাস্য থ্রিলার। সেই ম্যাচের শেষেই দুরন্ত লড়াইয়ের শেষে ইউরো কাপের শেষ আটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল স্পেন। এক্সট্রা টাইমের খেলার শেষে ফলাফল ৫-৩।
{link}
খেলার শুরুটাও হয়েছিল নাটকিয় ভাবেই। ম্যাচের কুড়ি মিনিটের মাথায় স্পেনের তরুন খেলোয়াড় পেদ্রির বাড়ানো পাস ভুলবসত গোলে ঢুকে যায় স্পেনের। খেলায় শুরুর দিকেই লিড পেয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। তারপর ম্যাচের ৩৮ মিনিটে পাবলো সারাবিয়ার গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় স্পেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ গোলে।
{link}
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৭ ও ৭৬ মিনিটের মাথায় গোল করে স্পেন। এই সময়ে খেলায় প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। নাটক শুরু হয় ম্যাচের ৮৫ মিনিটের মাথায়। ওরসিচের গোলে এক গোলের ব্যাবধান কমায় ক্রোয়েশিয়া। বদলে যায় খেলার গতি। এহেন মুহূর্তেই ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে আবার গোল করে ম্যাচে দুরন্ত কামব্যাক করে ক্রোয়েশিয়া। মূল সময়ের খেলা শেষ হয় ৩-৩ স্কোরলাইনে।
খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেই ১০০ মিনিটের মাথায় দুরন্ত গোল করেন আলভারো মোরাতা। মোরাতার দুরন্ত গোল আটকানোর কোনো সুযোগই ছিল না ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপারের কাছে। ১০৩ মিনিটের মাথায় কাউন্টার অ্যাটাকে লিড বাড়ায় স্পেন। এক্সট্রা টাইমের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটি গোল একটুর জন্য মিস করে ক্রোয়েশিয়া। খেলায় ফেরার আর সুযোগ করে উঠতে পারেনি তারা। খেলা শেষ হয় ৫-৩ স্কোরলাইনে।
স্পেন ও ক্রোয়েশিয়ার এই ম্যাচ এক কথায় এই ইউরো কাপের অন্যতম সেরা একটি ম্যাচ। দুরন্ত প্রদর্শন করেছেন আলভারো মোরাতা। গোল মিস করার জন্য খুনের হুমকিও করা হয়েছিল তাকে ও তার পরিবারকে। আজকের ম্যাচে সেই সবকিছুর জবাব দিয়ে দিয়েছেন তিনি। স্পেনের জয়ের পিছনে অন্যতম অবদান রয়েছে গোলকিপার উনাই সিমনেরও। তিনি না থাকলে আজকের ফলাফল হয়ত অন্য কিছুও হতে পারত।
