তথাগত ঘোষ, শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: ইতিমধ্যেই আয়োজক দেশ হিসাবে পরপর দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে কানাডা ও মেক্সিকো। তৃতীয় দেশ হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) সেই রেকর্ড ধরে রাখতে পারে কি না, সেই বিষয়টির উপরেই নজর ছিল শুক্রবার রাতে। অস্ট্রেলিয়া (Australia) –এর বিরুদ্ধে গ্রুপ লিগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেছিল তাঁরা। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল পচেতিনোর দল। ম্যাচে ২-০ গোলে জয়ী হয়েছে ইউএসএ। শেষদিকে আক্রমণে একাধিকবার চাপ সৃষ্টি করলেও, বল গোললাইন অতিক্রম করাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। টানা দুই ম্যাচে জয়ের সৌজন্যে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে দুরন্ত ছন্দে দেখা যাচ্ছিল USA –র খেলোয়াড়দের। শুরু থেকেই আক্রমণে চাপ বাড়ায় পচেতিনোর ছেলেরা। মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় ম্যাচে প্রথম গোল পায় আমেরিকা। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ক্যামেরন বার্গেস (Cameron Burgess)। ম্যাচে এগিয়ে যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ৪৩ মিনিটের মাথায় আসে ম্যাচের দ্বিতীয় গোল। গোলবক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট এসে ধাক্কা লাগে অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডারের পায়ে। ততক্ষণে বল লক্ষ্য করে ঝাঁপ দিয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক। এদিকে বল সেসময় গোলের সামনে বাতাসে ভাসছে। ভাসতে থাকা বল গোলের উদ্দেশ্যে ঠেলে দিতে ভুল করেননি অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। তাঁর হেড করা বল গোলে ঢুকতে দেখা ছাড়া উপায় ছিল না অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষকের। প্রথমে অফসাইডে গোল বাতিল হলেও, পরবর্তী ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) তা পুনর্বিবেচনা করে গোল দিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শেষ হয় ২-০ স্কোরলাইনে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তিনজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন অস্ট্রেলিয়ার কোচ। দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটের পর খেলায় নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায় অস্ট্রেলিয়া। আক্রমণের চাপ বাড়াতে থাকেন অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়েরা। বেশ কয়েকবার সুযোগ এলেও তা গোলে রূপান্তরিত হয়নি। ম্যাচের মধ্যে উত্তাপ বাড়তে থাকে। ৮৯ মিনিটের মাথায় মাঠেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের খেলোয়াড়েরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে একসঙ্গে তিনটি হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। কার্ড দেখেন অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি শটার এবং জেকব ইতালিয়ানো ছাড়াও ইউএসএ –র ফোলারিন বালোগুন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বেশ কিছুটা বাড়িয়ে তুলবে। অপরদিকে প্রথম ম্যাচে তুর্কি কে পরাজিত করার কারণে ইউএসএ –র বিরুদ্ধে হার সত্ত্বেও পরবর্তী রাউন্ডের যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কাছে।
