নিজস্ব সংবাদদাতা,কৃষ্ণগঞ্জ: হাসুয়া দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে আত্মঘাতী স্বামী। সাত সকালে জোড়া মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ঘটনাটি নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার কুটিরপাড়া এলাকায় ঘটেছে। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছে পুলিশ। জানা যায় যে কুটিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা, জয়ন্ত সরদার, ১২ বছর আগে ওই এলাকারই যুবতী দিপালী সর্দারকে বিয়ে করেন। তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে। বর্তমানে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। আরও জানা যায় যে বিয়ের পর থেকেই মাঝেমধ্যেই অশান্তি লেগে থাকতো দুইজনের মধ্যে। কয়েক বছর আগে অশান্তি আদালত পর্যন্ত পৌঁছায় এবং দীর্ঘদিন ধরেই আদালতে মামলা চলছিল দুজনের মধ্যে। অশান্তি এবং আদালতে মামলা চলার কারণে দিপালী সর্দার তাঁর বাবার বাড়িতেই থাকতেন বলে জানা যায়। তবে তাঁদের মধ্যে অশান্তি এবং মামলা চলা সত্ত্বেও মাঝেমধ্যেই দেখা করত দিপালী ও জয়ন্ত।
{link}
অভিযোগ, গতকাল রাতে দিপালীকে ডেকে পাঠায় স্বামী জয়ন্ত সর্দার। জয়ন্ত ডেকেছে শুনে দিপালী বাড়ি ছেড়ে জয়ন্তর কাছে যায়। এরপরে সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরের দিন সকালবেলা স্থানীয় বাসিন্দারা গিয়ে দেখে হাত বাঁধা অবস্থায় দিপালী সর্দারের রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে জমিতে। কিছু মানুষ দেখতে পায় যে কিছুটা দূরে রেললাইনে মাথা ছিন্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে জয়ন্ত সরদারের মৃতদেহ। এরপরে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে এলাকাবাসীরা এবং ঘটনাস্থলে ভিড় জমা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় দিপালীর এবং জয়ন্তর পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। অন্যদিকে ঘরের কাছ থেকেই ধারালো হাসুয়া উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ এবং স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান অভিযুক্ত জয়ন্ত সর্দার নিজের স্ত্রীকে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে পরবর্তীকালে রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে নিজেও আত্মঘাতী হন।
এ বিষয়ে কুটিরপাড়া এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এর আগেও দেখা গেছে প্রায় সই দুজনের মধ্যে ঝামেলা লেগেই থাকতো। মামলাও চলছিল আদালতে তবে মাঝেমধ্যে দেখা করতো জয়ন্ত এবং দিপালী। গতকাল জয়ন্ত দীপালিকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে মৃত দিপালী সরদারের মা বলেন, গতকাল রাত এগারোটার সময় জয়ন্ত তাঁর মেয়েকে ডেকে পাঠিয়েছিল। তখন দিপালী ঘুমিয়েছিল। জয়ন্তের কাছে শুধুমাত্র একটি মোবাইল ফোন ছিল কোন ধারালো অস্ত্র ছিল না। দীর্ঘক্ষণ মেয়ে ফিরে না আসার কারণে সকালে জানতে পারি খুন করা হয়েছে দিপালীকে।
{ads}