নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়াঃ স্কুল ছুটির পর প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পুকুরে স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে দাপাদাপি করতে গিয়ে দুর্ঘটনা জলে তলিয়ে মৃত্যু নবম ক্লাসের এক ছাত্রের, অল্পের জন্য প্রানরক্ষা আর এক ছাত্রের। হাওড়ার দানেশ শেখ লেনের মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের আবহ এলাকাজুড়ে। মৃত স্কুলছাত্রের নাম হিকমতিয়ার খান(১৫)। ঘটনাটি ঘটে সোমবার বিকেল ৩টে নাগাদ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মৃত ছাত্র ব্যতীত প্রায় ১০-১২ জন ছাত্রের প্রত্যেকেই স্কুলের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় জলে নেমেছিল। চান করতে করতে হঠাতই দুজন জলে নিজেদের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে। দুর্ঘটনার পর ঘন্টাখানের স্থানীয়েরা পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে একজনকে জীবিত ও আর এক জনের ছাত্রের নিথর দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দ্বিতীয় কিশোরকে মৃত ঘোষনা করেন চিকিৎসকেরা। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
{link}
সূত্রের খবর এদিন বিকালে প্রবল বৃষ্টিতে বেশ কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া স্কুলের পোশাক পরেই দক্ষিণ হাওড়ার দানেশ শেখ লেনের ওই পুকুরে স্নান করতে নামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এরা সকলেই অত্যন্ত উশৃংখলভাবে জলে দাপাদাপি করছিল। এরপরেই হিকমতিয়ার খান(১৫) নামের ওই নবম শ্রেণীর ছাত্রটি জলে তলিয়ে যায়। তার সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা ভয় পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুকুর ঘাটে ব্যাগ এবং জুতো পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীরা পুকুরে নেমে প্রায় ঘন্টাখানেক তল্লাশি চালানোর পর হিকমতিয়ারের নিথর দেহটি উদ্ধার করে হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সম্পূর্ণ ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে বি গার্ডেন থানার পুলিশ।
মৃত ছাত্রের বাড়ি সাঁকরাইল থানা এলাকার লিচুবাগানে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার বিকেল ৩টে নাগাদ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মৃত ছাত্র ব্যতীত প্রায় ১০-১২ জন ছাত্রের প্রত্যেকেই স্কুলের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় জলে নেমেছিল। বারণ করা সত্বেও কেউ কথা শোনেনি। বৃষ্টিতে ভরা পুকুরে প্রচন্ড উশৃংখলভাবে দাপাদাপি করছিল তারা। এরপর আচমকাই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। ২ জন জলে তলিয়ে যায়। ভয় পেয়ে বাকি বন্ধুরা জল থেকে উঠে পালিয়ে যায়। পাড়ার লোকজন ছুটে এসে এক ছাত্রকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিকেল নাগাদ আরেক ছাত্রের দেহ উদ্ধার হয়। বি গার্ডেন থানার পুলিশ ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতের প্রতিবেশীরা জানান, কিভাবে এতদূর সে কাউকে কিছু না জানিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে চলে গেল তা তাঁরাও বুঝতে পারছেন না।
