একুশের ভোটযুদ্ধে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে বাম-কংগ্রেস আইএসএফ জোটের। শূন্যে গিয়ে ঠেকেছে তাদের আসন। প্রাপ্ত একটি মাত্র আসন আইএসএফ-এর। এই কারনেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অধীররঞ্জন চৌধুরীকে। অন্তত এমনই জল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য কংগ্রেসের অন্দরে। কিন্তু অধীরকে সরিয়ে কাকে তাঁর পদে বসানো হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি বলেই জানা যাচ্ছে কংগ্রেস সূত্র থেকে। এর পাশাপাশি রাজ্যে কংগ্রেসের ভরাডুবির নেপথ্যে কী কারণ, তা জানতে দু সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্টও দিতে বলা হয়েছে প্রদেশ নেতাদের বলে সূত্রের খবর। রাজ্যে যেমন তৃণমূল-কংগ্রেস মানেই মমতা ব্যানার্জি সেরকমই কংগ্রেসের অধীর ছিলেন। সেই পরিচিত মুখকেই কি এবার হারাতে চলেছে কংগ্রেস ?
{link}
শেষ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিরোধী দলের মর্যাদা প্রাপ্তি ঘটেছিল কংগ্রেসের। কিন্তু চলতি বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসেরও নির্বাচনী পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের সংখ্যা একই, সংখ্যাটা শূন্য। রাজ্যে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ভোট হয়েছে ২৯২টিতে। যার মধ্যে একটিও জোটেনি বাম কংগ্রেসের। কিন্তু ঠিক কী কারণে এ রাজ্যে ধরাশায়ী কংগ্রেস? কংগ্রেসের একটি অংশের মতে, বামেদের হাত ধরে ভোটে লড়াই কাল হয়েছে কংগ্রেসের। আবার অন্য একটি অংশের মতে, সংগঠন ছাড়াই লড়তে যাওয়ার কারনেই এই ফলাফল প্রাপ্তি ঘটেছে সোনিয়া গান্ধির দলের।
{link}
কিন্তু ঠিক কী কারণে দলের এই সমাপতন, তা জানতে বঙ্গের নেতাদের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন কংগ্রেস কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। যে সমস্ত ঘাঁটি কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত সেই মালদা মুর্শিদাবাদেই বা ভরাডুবির কারন কি? জানতে চাওয়া হয়েছে প্রশ্নের উত্তর। সেই সূত্রেই নাকি ছড়িয়েছে জল্পনা। যা শোনা যাচ্ছে তা অনেকটা এইরকম, ব্যর্থতার দায় অধীরের ঘাড়ে চাপিয়েই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরাতে চাইছেন সোনিয়া। যার ফলে দলের প্রতি নিষ্ঠাবান এক সেনাপতিকেই সরিয়ে দিয়ে চলেছে কি তার রাজা ও রানী, কার্যত জল্পনা তুঙ্গে।
{link}
কিন্তু যদিইবা অধীরকে সরানো হয়, তাহলে যে প্রশ্ন উঠে আসছে তা হল অধীরকে সরিয়ে কাকে দেওয়া হতে পারে প্রদেশ সভাপতির দায়িত্ব? যে মানুষটি এতো বছর নিস্বার্থভাবে দলের সেবা হাজার প্রলোভন পেরিয়ে করে গেছেন কংগ্রেসের একটি সূত্রের প্রশ্ন, অধীর ছাড়া আর কেই বা ধরবেন এই ভাঙা নৌকার হাল? কেই বা রাখবেন হাতে হাত? যারা আছেন তারা সবাই অধীরের চেয়ে বয়স্ক, এবং এর পাশাপাশি উঠে আসেনি কোন নতুন যুব মুখও, তাহলে অধীরের পরিবর্ত কে? প্রশ্নের উত্তর দলের তাবড় তাবড় নেতা সহ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ সকলেই চুপ!
