header banner

West Bengal: বিষ্ণুপুর মহাশ্মশানের পাশ থেকে বয়ে গেছে আদি গঙ্গা

article banner

শেফিল্ড টাইম্‌স ডিজিটাল ডেস্ক:   প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ বছর আগে বিষ্ণুপুর মহাশ্মশানের পাশ থেকে বয়ে যেত আদি গঙ্গা। বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর মহাশ্মশান লাগোয়া আদি গঙ্গার কথা কথিত রয়েছে। এমনকি ভগিরথ কৈলাস থেকে যে গঙ্গা এনেছিল সেই গঙ্গায় বিষ্ণুপুর মহাশ্মশানের কাছ থেকে বয়ে গিয়ে সাগরে মিশেছিল। এমনকি ভগবান শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর যখন নীলাচলে যাচ্ছিল তখন এই বিষ্ণুপুর মহাশ্মশানের পাশ থেকেই তিনি গিয়েছিলেন। কালের নিয়মে সেই আদিগঙ্গা এখন মোঝে গিয়েছে কিন্তু এখনো বিষ্ণুপুর মহাশ্মশান রয়ে গিয়েছে। বিষ্ণুপুর মহাশ্মশানের মধ্যেই প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ বছর ধরে পূজিত হয়ে আসছে মা করুণাময়ী।প্রাচীন মন্দিরবাজারের দক্ষিণ বিষ্ণুপুর শ্মশান লাগোয়া জঙ্গলে তান্ত্রিক মণিলাল চক্রবর্তী শুরু করলেন কালীপুজো।

{link}

স্বপ্নাদেশ পেয়ে টালির চালের মন্দির বানিয়ে দেবীর আরাধনা শুরু করেছিলেন তিনি। যদিও তখন বছরে একবারই পুজো হত। পরে স্বপ্নে মা কালী নিত্যপুজোর ইচ্ছা প্রকাশ করলে পাকাপাকিভাবে মায়ের মন্দির গড়ে তোলা হয়।শত শত বছর আগে এখানে শব সাধনা করা হত। তবে আজও এই শ্মশানে ঢুকলে গা ছমছম করে ওঠে।কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে শ্মশান লাগোয়া জঙ্গলের মধ্যে পুজো শুরু করেন তিনি । দেবী নিত্যপূজার ইচ্ছা প্রকাশ করলে পাকাপাকিভাবে তৈরি করা হয় মন্দির । দেবী মূর্তির পিছনে বসানো হয় ১০৮ টি নরমুণ্ড । সামনে পঞ্চমুণ্ডির আসন । এখানে তন্ত্রমতে দেবীকে পুজো দেওয়া হলেও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বলি । কালীপুজোর দিন মদ, কাঁচা মাংস ও ছোলা দিয়ে পুজো করা হয় ডাকিনী-যোগিনীকে । দেওয়া হয় শিয়াল ভোগও । গভীর রাতে মন্দিরের সেবাইত শ্মশান জাগানোর খেলায় মেতে ওঠেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে ।মণিলালের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর পুত্র সত্তরোর্ধ্ব শ্যামল চক্রবর্তী মন্দিরের দায়িত্ব সামলে আসছেন । তিনিই এখন প্রধান সেবাইত । শ্যামল চক্রবর্তী জানা, বাবার মৃত্যুর পর কাকা ফণীভূষণ চক্রবর্তীর কাছ থেকে তন্ত্রের শিক্ষা নিতে থাকি । তাঁরই হাত ধরে গুপ্তবিদ্যা নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু হয় । পরে করুণাময়ী মন্দিরে মায়ের নিত্য পূজা শুরু করি । দেখতে দেখতে প্রায় ৭০ বছর ধরে আমি এই মন্দিরেই পূজা করি। দূর দূরান্ত থেকে বহু ভক্তরা মা করুণাময়ীর কাছে ছুটে আসে। মা করুণাময়ী এখানে সকলের মনবাঞ্ছা পূর্ণ করে। বিহার, উড়িষ্যা, উত্তরপ্রদেশ সহ বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ভক্ত মা করুণাময়ী আশীর্বাদ পেতে এই মন্দিরে এসে ভিড় করে।জয়ন্তী ভৌমিক নামে এক ভক্ত তিনি জানান, মায়ের মহিমা অসীম। মায়ের কাছে যে যা মনবাঞ্ছা নিয়ে আসে মা সেই মনবাঞ্চা পূর্ণ করে। আমিও মায়ের কাছে বেশ কয়েকবার মনোবাঞ্ছা নিয়ে এসেছিলাম এবং আমার সেই মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়েছে। চক্রবর্তী পরিবারের এই পূজোয় এগিয়ে আসে পরিবারের মহিলারাও।

{link}

সানিতা চক্রবর্তী জানা, দীপান্বিতা অমাবস্যার দিন আমরা চরম ব্যস্ততার মধ্যে থাকি। মায়ের ভোগ প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে মায়ের ফলকাটা সমস্ত কিছুই পরিবারের মহিলারা করে থাকি এবং যে সকল ভক্তরা কালীপুজোর দিন আসছে তাদেরকে প্রসাদের ব্যবস্থা করি আমরা। বিষ্ণুপুর মহাশ্মশানে কালী পুজো দেখতে দূর দূরান্ত থেকে বহু ভক্তরা ছুটে আসে।

{ads}

news breaking news diwali 2024 kali puja new moon সংবাদ

Last Updated :