সুদেষ্ণা মন্ডল, নামখানা: গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় নামখানার ঈশ্বরীপুরের কাছে হাতানিয়া দোয়ানিয়া নদীতে দুটি টলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিখোঁজ হয়েছিলেন কাকদ্বীপের এক মৎস্যজীবী অভিমুন্য বিশ্বাস। নিখোঁজ মৎস্যজীবীর বাড়ি কাকদ্বীপ বিধানসভার হারুড পয়েন্ট পোস্টাল থানার অন্তর্গত ৮ নম্বর ছোট পোল এলাকায়। টানা তিনদিন ধরে খোঁজ চালালেও খোঁজ পাওয়া যায়নি ওই নিখোঁজ মৎসজীবীর। অবশেষে শনিবার সকালে তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যের মৃত্যুতে চিন্তা দেখা দিয়েছে পরিবারে।
{link}
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে নামখানা থেকে এফবি মহাদেবী নামে একটি ট্রলার সাগরের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেয়। অপর দিক থেকে এফবি মা তারা নামে একটি ট্রলার এসে সজোরে ধাক্কা মারে এফবি মহাদেবী ট্রলারটিকে। এর ফলে দুটি ট্রলার থেকে মোট চারজন মৎস্যজীবীর নামখানা হাতানিয়ে দোয়ানিয়া নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরে আশেপাশের মাছ ধরতে যাওয়া অন্যান্য ট্রলারের মৎস্যজীবীদের সহযোগিতায় নদী থেকে তিনজনকে উদ্ধার করা গেলেও একজন মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করা সেই মুহূর্তে সম্ভব হয়নি। তিনজন মৎস্যজীবীকে নদী থেকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কাকদ্বীপ মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
{link}
নিখোঁজ মৎস্যজীবী খোঁজে বৃহস্পতিবার থেকে নামখানার হাতে নিয়ে নদীতে অন্যান্য মৎস্যজীবী ট্রলার ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। টানা তিন দিন কেটে যাওয়ার পর শনিবার নামখানা দ্বারিকনগর ঘাটের কাছে নিখোঁজ মৎস্যজীবীর মৃতদেহ ভাসতে দেখে কয়েকজন মৎস্যজীবী। এরপর উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বকর্মা পূজার দিন পরিবারের একমাত্র রোজগেরাকে হারিয়ে কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েছে মৃত মৎস্যজীবীর পরিবার। মৃত মৎস্যজীবী পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন এহেন মৃত্যুর খবরে শোকের আবহ মৎসজীবীদের মধ্যেও।
