বৃহস্পতিবার কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সাথে বৈঠক ছিল পশ্চিমবঙ্গের রজনৈতিক দলগুলির। সকালে থেকেই বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলের আলোচনা ছিল তুঙ্গে। একুশের মহারনের আগে পশ্চিমবঙ্গের উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহলে যে এই বৈঠকে বিপুল পরিমান গুরুত্ব বর্তমান তা আলাদা করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তৃনমূল কংগ্রেস, সিপিআইএম ও বিজেপির প্রতিনিধিদের সাথে কি আলোচনা করলেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা তা জানতে মুখিয়ে রাজ্যবাসী।
তৃনমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসাবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত বক্সি, সুব্রত মুখার্জী ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পদ্মফুলের শিবির থেকে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, শিশির বাজোরিয়া, সব্যসাচী দত্ত, ও স্বপন দাসগুপ্ত। সিপিআইএম এর পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রবিন দেব ও সুখেন্দু পানিগ্রাহী। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ছিলেন সৌম আইচ।
বৈঠক সেরে বেরিয়ে প্রায় সব নেতাই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাদের বক্তব্য জানিয়েছেন। বৈঠক সেরে বেরিয়ে তৃনমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনারদের কতগুলো দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। যেমন বিরোধী পক্ষ অর্থাৎ বিজেপি শব্দ দূষণ চালাচ্ছে। যেমন কথায় কথায় তারা গোলি মারো শ্মশানে পাঠিয়ে দেবো বা মাটিতে পুঁতে দেবো এমন শব্দ তারা ব্যবহার করছে ।যা বাংলার সংস্কৃতি কৃষ্টি কৃষ্টি নষ্ট করে দিচ্ছে। ফিরহাদ হাকিমেরও বক্তব্য প্রায় একই। এগুলি ছাড়াও বিরোধী পক্ষ অর্থাৎ বিজেপি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করছে বলে তার মতামত।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের গলায় আবার অন্য সুর। তার মতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। তারা শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন আসন্ন বিধানসভা ভোট যেন নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এবং ভোটার লিস্ট আরো একবার স্ক্রুটিনি করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজ্যের ভোটারদের সুরক্ষার উপর জোর দেওয়ার কথা অনুরোধ করেছেন নির্বাচন কমিশনকে। লোকসভা ভোটে কোন রকম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়নি ।কিন্তু আগের বারের ভোটে বিধানসভা ভোটে ৪২ টি আসনের যে অবস্থা দেখা গিয়েছিল এবং রাজ্যজুড়ে বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। সেরকম অবস্থা যেন সৃষ্টি না হয়। সেদিকে নজর রাখতে বলেছে নির্বাচন কমিশনকে।
বাম নেতা সাংবাদিকে সাক্ষাৎকারে বলেন, ভোটের নামের তালিকায় যাদের নাম থাকে পরবর্তী সময় দেখা যায় সে তালিকা থেকে অনেকের নাম বাদ পড়েছেন এবং সেই নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা চান সে নামের তালিকা সঠিকভাবে হোক। এর পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হয় সেদিকে বারবার করে তারা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন এবং এ রাজ্যে ভোট লুট সাধারণ ব্যাপার তা যেন না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কংগ্রেস নেতা সৌম আইচের মতে ইতিমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি যেভাবে এক অস্বাভাবিক বাতাবরণ সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমবাংলায় তার ফলে বিশৃংখলার আবহাওয়া সূষ্টি হয়েছে। সেই কারণে তিনি আবেদন জানিয়েছেন এই বিষয়ে নজর দেওয়ার জন্য।
প্রত্যেক দলই আজ ভোটের আগে তাদের মতামত ও অভিযোগের কথা তুলে ধরেছেন নির্বাচন কমিশনের সামনে। প্রত্যকেই চান রাজ্যের ভোট যেন শান্তিপূর্নভাবে সম্পন্ন হোক। এখন ২১ এর মহারন শান্তিপূর্ন ভাবে আদৌ হবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর ভোটের সময়েই পাওয়া যাবে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশন এই মিটিংয়ের পর ভোটার তালকায় কোন পরিবর্তন আনে কি না? কিংবা সুরক্ষার ক্ষেত্রেও কি সিদ্ধান্ত তারা গ্রহন করে সেই দিকেই লক্ষ্য থাকবে রাজ্যবাসীর।
