শেফিল্ড টাইম্স ডিজিটাল ডেস্ক : সোনারপুরে (Sonarpur) সাতসকালে এক বিজেপি কর্মীকে কোপানোর অভিযোগের (Allegations) ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনারপুরের চৌহাটি এলাকায় গোবিন্দ অধিকারী নামে এক বিজেপির কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ ওঠে , এমনকি বাধা দিতে এলে গোবিন্দ অধিকারীর স্ত্রী ও পুত্রকে ও ধারালো অস্ত্রের দিয়ে আঘাত করা হয়। শনিবার ভোর ৩.৩০ টের পর তাঁর বাড়িতে দুষ্কৃতীরা চড়াও হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে, তাঁর স্ত্রীকে এবং পুত্রকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। বাড়িতে গোবিন্দের কন্যাও ছিলেন। তবে তাঁর উপর হামলা হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোবিন্দের স্ত্রী নমিতা অধিকারী এবং পুত্র গৌরব অধিকারী গুরুতর জখম।পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আটক করা হয়েছে আক্রান্তদের প্রতিবেশী সুভাষ দেবনাথ এবং তাঁর পুত্র সুমিত দেবনাথকে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, এটি পারিবারিক গোলমাল। কিছু দিন আগে কুকুর মারা নিয়ে এই দুই পরিবারের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। তার পর থেকেই তাঁদের মধ্যে তিক্ততা বৃদ্ধি পায়।
{link}
শনিবারের হামলার সঙ্গেও সেই ঝামেলার যোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মূল অভিযুক্ত অর্চন পশুপ্রেমী (animal lover) হিসাবে পরিচিত এলাকায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কুকুরের উপর হামলার প্রতিশোধ (revenge) নিতেই এই কাণ্ড। সোনারপুরে অধিকারী পরিবারের হামলার ঘটনায় ধৃত অর্চন ভট্টাচার্য চেন্নাই IIT এর প্রথম বর্ষের ছাত্র। সোনারপুরেরই সুভাসগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। অর্চনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সুভাস দেবনাথের মেয়ে স্মৃতি দেবনাথের। স্মৃতি সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। প্রেমিক অর্চনকে অধিকারী পরিবারের লোকজনের খারাপ ব্যবহার করার বিষয়টি জানায় ও অর্চনের কাছে কান্নাকাটি করে স্মৃতি। বিষয়টি মানতে পারেনি অর্চন। চেন্নাই থেকে সে চলে আসে সোনারপুর। অর্চনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে সে গভীর রাতে এলাকায় আসে। অধিকারীদের বাড়ি নির্মিয়মান। ফলে বাড়িতে ঢোকার ক্ষেত্রে তাকে কোনো বাধা পেতে হয়নি। হঠাৎ গৌরব বাথরুমে বের হলে তার উপর হামলা চালায় অর্চন। বাবা ও মায়ের উপরেও হামলা চালায় একইভাবে। যেহেতু তারা এক ঘরেই ছিল। অন্য ঘরে গার্গী অধিকারী থাকায় তার উপর হামলা হয়নি। তবে বাবা, মা ও ভাইয়ের চিৎকারে সে উঠে পড়ে ও এই অবস্থায় পরিবারের সবাইকে দেখে চিৎকার করে। তাদের চিৎকারে চলে আসেন প্রতিবেশীরা। খবর দেওয়া হয় সোনারপুর থানায়। পুলিশ আসে ঘটনাস্থলে। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাঙুর ও পরে এসএসকেম হাসপাতালে (SSKM Hospital) নিয়ে যাওয়া হয়।
{link}
স্থানীয় বিজেপি নেতা দেবনাথ চক্রবর্তী জানান,ভোটের এক সপ্তাহ আগে একটি কুকুর নিয়ে দুই বাড়ির মধ্যে অশান্তি হয়েছিল। বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছিল। একটি কুকুর মারাকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হয়েছিল। সুভাষ দেবনাথের নামে গোবিন্দ অধিকারী মামলা করেছিল। শনিবার ভোরে আমার কাছে ফোন আসে, গোবিন্দ এবং তাঁর পরিবারকে চপার দিয়ে কোপানো হয়েছে বলে শুনি। কিন্তু এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। আমাদের ওয়ার্ড শান্তিপূর্ণ। এখানে কোনও রাজনৈতিক ঝামেলা অতীতেও ছিল না, এখনও নেই। আমরা সকলে একসঙ্গে কাজ করি। এটি দু’টি পরিবারের মধ্যে গোলমাল। পুলিশ যাঁকে আটক করেছে, যাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। কার্যত এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান উত্তর। ঘটনার পর এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
.jpeg)
