একসময় তার কলমের লেখা থেকে উপহার দিয়েছিলেন ’ষাট ঘন্টা তেইশ মিনিট’-এর মতো রোমহর্ষক থ্রিলার। সেই বাংলা সাহিত্য জগতে আরও এক নক্ষত্রপতন। কয়েকদিন আগেই সাহিত্যের পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছিলেন শঙ্খ ঘোষ। এবার সেই পথেই পাড়ি দিলেন অনীশ দেব। রহস্য রোমাঞ্চ লেখকের প্রয়ানে আবারও শোকের ছায়া বাংলা সাহিত্যজগতে। বুধবার সকালে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন জনপ্রিয় এই লেখক। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। লেখকের মৃত্যুর খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন তার কন্যা মোনালিসা। শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার তাঁকে রক্তও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে হাসপাতাল সূত্রে। প্লাজমার প্রয়োজন বলে সেইমতো ডোনারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না, বাংলা সাহিত্যের কয়েক পৃষ্ঠা ফাঁকা রেখেই চলে গেলেন তিনি।
{link}
প্রয়াত লেখকের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়াতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। এরপর সেখানে তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ধীরে ধীরে শুরু হয় শারীরিক অবনতি। ডাক্তারদের অক্লান্ত চেষ্টা সত্ত্বেও অবশেষে এদিন ভোরে মৃত্যু হয় তাঁর।
{link}
বাংলার প্রথম ফিউচারিস্টিক থ্রিলার ' তেইশ ঘন্টা ষাট মিনিট'-এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য জগৎকে সমৃদ্ধ করেছিলেন তিনি। লেখকের ভাবনা ও লেখার গুণে আজও বিপুল জনপ্রিয় সেই বই। ছোট ও কিশোরদের জন্যেও তার লেখা বিজ্ঞানের হরেকরকম, হাতে কলমে কম্পিউটার, বিজ্ঞানের দশদিগন্ত ইত্যাদি বিজ্ঞান গ্রন্থ পাঠকমহলে ভীষণ জনপ্রিয়। তার উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ, উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে,' ভয়পাতাল',' অনীশের সেরা ১০১', বিশ্বের সেরা ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প। বাংলার সাহিত্যের মহাকাশ আজ সত্যিই তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক নক্ষত্র কে হারাল।
