নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর: রাজ্য সরকার নাবালিকার বিয়ে রুখতে একাধিক আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। এছাড়াও নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করতে একাধিক প্রকল্প ঘোষনা করেছে। কিন্তু আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নাবালিকার বিয়ে হচ্ছে প্রায়সই। একই ঘটনা ঘটছিল আরও একবার। কিন্তু গোপন সূত্রে খবর চলে আসে প্রশাসনের কাছে। খবর পেয়ে নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করলেন স্বয়ং বিডিও। ঘটনাটি ঘটছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদল থানার নাটশাল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের চাঁদপাত্র গ্রামে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি মন্দিরে স্বয়ং বিডিও যেগেশ চন্দ্র মণ্ডল সহ পুলিশ বাহিনী গিয়ে নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করে। বিডিও উদ্যোগে খুশি এলাকার বাসিন্দারা। এই ঘটনার পাএ, নাবালিকার পরিবারের সদস্য সহ ৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার ধৃতদের হলদিয়া মহাকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেননি বলেই পুলিশ সূত্রে খবর৷
{link}
স্থানীয় সূত্রে খবর, নাবালিকা জানা সত্ত্বেও বিয়ের অনুষ্ঠান ঠিক করেছিল দুই পরিবার। মহিষাদল থানার নাটশাল- ১ গ্রামপঞ্চায়েতের চাঁদপাত্র গ্রামের সন্দীপচাঁদ পাত্রের সাথে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপের প্রভাস দাসের নাবালিকা মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়। নাবালিকার সাথে বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে মহিষাদল থানার গোপালপুরে ছেলের মামা বাড়িতে গুটি কয়েক লোকজন নিয়ে হরি মন্দিরের সামনে পুরোহিতের উপস্থিতিতে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়। হোম যজ্ঞ শুরু হয়। এমন সময় মহিষাদলের বিডিও যোগেশ চন্দ্র মণ্ডল সহ পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে হাজির হয়। এরপর নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করেন। পাশাপাশি নাবালিকার পাএী, পাএ সহ আত্নীয় পরিজনকে তুলে নিয়ে আসে। এরপর তাদের মহিষাদল থানায় রাখা হয়।পরে বিডিও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পাএ সহ ৬ জনকে গ্রেফতার করে মহিষাদল থানার পুলিশ।
{link}
এই ঘটনা প্রসঙ্গে মহিষাদল বিডিও যেগেশচন্দ্র মণ্ডল বলেন "গোপন খবর পেয়ে নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। দুই পরিবারকে বোঝানোর পরও শোনেনি। তাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি"। মহিষাদল থানার ওসি প্রলয় চন্দ্র বলেন "বিডিও অভিযোগে ভিওিতে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে “, বিডিওর ও পুলিশের এহেন পদক্ষেপের জন্য সকলেই তাদের সুনাম করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলও, আজও সমাজের থেকে লুকিয়ে যারা এহেন অমানবিক ও অনৈতিক কাজ করে চলেছে, তাদের জ্ঞানচক্ষু খুলবে কবে?
.jpeg)
