বর্তমানে রাজ্যে রাজনৈতিক ও শাসকের শীর্ষ পদে মমতা বন্দোপাধ্যায়। একুশের নির্বাচনে নিজের একার শক্তিতে ঘোল খাইয়েছে ছেড়ে দিয়েছেন কেন্দ্রের সমস্ত তাবড় তাবড় নেতৃত্বদের। তাই এবার নারীশক্তিকে টেক্কা দিয়ে নারীশক্তির প্রতিই দ্বারস্থ হতে চলেছে বিজেপি? জল্পনা অনেকটা সেইরকমই। মমতাকে টেক্কা দিতে রাজ্য সভাপতি পদে মহিলা মুখ আনছে বিজেপি! রাজ্য বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ লকেট কিংবা দেবশ্রীকে ওই পদে আনতে চলেছে গেরুয়া শিবির। তবে লকেটের চেয়ে দেবশ্রীর দিকেই পাল্লা ভারী বলে গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর। কারণ, তিনি উঠে এসেছেন বিজেপির সংগঠন আরএসএস থেকে, আর তার পাশাপশি তার রাজনৈতিক বুদ্ধিও তারিফযোগ্য। দাপট তো রয়েছেই
চলতি বছরই রাজ্য সভাপতি পদে মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে দিলীপ ঘোষের। রাজ্য বিজেপির সভাপতি পদে অবস্থান করলেও লোকসভার পর বিধানসভায় ভরাডুবি হয়েছে দলের। অনেকে সেই ফলাফল-এর জন্য দায়ী করেছেন দিলীপ কেই। ভুলভাল মন্তব্যের কারনে একাধিকবার শিরোনামে উঠে এসেছে তার নাম। এর পাশাপাশি বিজেপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সর্বোচ্চ দুটো টার্মের বেশি ওই পদে থাকা যায় না। তাই দিলীপের বিদায় এক প্রকার নিশ্চিত। তাঁর জায়গায় কাকে বসানো হবে, তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে বিজেপির অন্দরে।
{link}
গেরুয়া শিবিরের একটি সূত্রের খবর, মমতাকে টক্কর নিতে পারেন এমন একজন মহিলা মুখের সন্ধান দীর্ঘদিন ধরেই করছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। তখনই আলোচনায় উঠে আসে দুজনের নাম, একজন দক্ষিণবঙ্গের লকেট চট্টোপাধ্যায়, অন্যজন উত্তরবঙ্গের দেবশ্রী চৌধুরী। লকেট লড়াকু নেত্রী। তবে তাঁর রিপোর্ট কার্ড ভালো নয় বলে বিজেপি সূত্রে খবর। কারণ, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে হুগলির একটি কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে তিনি হেরে যান। যে সিটে তিনি জয়লাভ করবেন বলে নিশ্চিত ছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এই জেলায় দলের ফলও ভালো হয়নি। যদিও সংগঠন চালানোর অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন মহিলা মোর্চার সভানেত্রী ছিলেন। বর্তমানে তিনি রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক। তাই তাঁকেই দায়িত্ব দেওয়াই যায়।
পদের দাবিদার আরও একজন। তিনি দেবশ্রী চৌধুরী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মন্ত্রিসভায় রদবদল আসন্ন। সূত্রের খবর, তখনই সরানো হবে দেবশ্রীকে। রাজ্য সভাপতির পদে পুনর্বাসন দেওয়া হতে পারে তাঁকে। এখন দেখার, যদি বিজেপি তাদের এই পরিকল্পনা অনুযাইই চলে তলে কোন মহিলা নেত্রীর নাম উঠে আসে রাজ্য সভাপতি হিসেবে। যদি এই দুই রাজনৈতিক মুখের মধ্যে একজন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব হয়ে যান তবে আসন্ন সময়ের লড়াইও জমে উঠবে বঙ্গ রাজনীতিতে সে কথা স্পষ্ট। এহেন লড়াইয়ের সাক্ষী বাংলা এর আগে হয়নি।
