রাজ্য মন্ত্রীসভা ঘোষনা হওয়ার পর এবার পালা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা ঘোষনা হওয়ার। সেই মন্ত্রীসভাতেও খুব শীঘ্রই রদবদল আসন্ন। সেই মন্ত্রীসভায় বাংলার কতজনের ঠাঁই হতে চলেছে, প্রশ্ন এখন সেখানেই। গেরুয়া শিবির সূত্রের খবর, দুই সাংসদ সহ এ রাজ্যের মোট তিনজন ঠাঁই পেতে পারেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়।
{link}
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে ২০০ আসন পাওয়ার আশা করেছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও তাঁদের সে আশা পূরণ হয়নি, কার্যত সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। বিধানসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গড়লে অনেককে ঠাঁই দেওয়া যেত। সেক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হত না। তবে ভোটে হেরে যাওয়ার পর মাথাচাড়া দিয়েছে একাধিক সমস্যা। তার উপর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে পড়েছে মুকুল রায়ের দলবদলের কারনে। বাংলার রাজনীতির চানক্য দলবদলের পর যে সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। অতএব কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তত কয়েকজনকে ঠাঁই দিয়ে সংগঠন ধরে রাখার চেষ্টা বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।
{link}
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কারা পেতে পারেন ঠাঁই? বিজেপি সূত্রে খবর, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে মন্ত্রী করা হতে পারে। কারণ দিলীপকে রাজ্য সভাপতির পদে দ্বিতীয়বারের জন্য রেখে আদতে দলের কোনও লাভ হয়নি। তাই তাঁকে সরানো প্রয়োজন। নিশীথ প্রামাণিক তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছেন দীর্ঘদিন। তিনি কোচবিহারের সাংসদ। জেলায় গেরুয়া সংগঠনকে তিনি দাঁড় করিয়েছেন শক্ত ভিতের ওপর। মূলত তাঁর জন্যেই উত্তরবঙ্গে ভালে ফল করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির জয়ের নেপথ্যে রয়েছেন আরও একজন। তিনি জন বার্লা। তাঁকেও মন্ত্রী করা হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে বাদ যাবেন নিশীথ। তাঁকে সংগঠনের কোনও বড় দায়িত্বে বসানো হতে পারে। এর পাশাপাশি মন্ত্রী হতে পারেন ঠাকুরবাড়ির শান্তনু ঠাকুরও। পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁকে মন্ত্রী করে মতুয়া সম্প্রদায়ের রাশ হাতে রাখতে পারে বিজেপি। এই রাশ হাতছাড়া হলে সমূহ বিপদ। কারণ, তখন ফের ঠাকুরবাড়ির অন্দরে ঢুকে পড়বে ঘাসফুল আঁকা ঝান্ডা।
মোটমাট একুশের ভোট মিটে যাওয়ার পর এখন কার্যত নিজেদের ঘাঁটি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিজেপি। সামনে ২৪-এর লোকসভা নির্বাচন আসন্ন, সেই দিকেও একটা বড় লক্ষ্য থাকবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। এখন প্রশ্ন হল যদি দিলীপ ঘোষ কে মন্ত্রী করা হয় তবে রাজ্য সভাপতির পদে বসবেন কে? শুভেন্দু? তার সম্ভাবনাই সবথেকে বেশি। যদিও এই পর্যন্ত সবটাই অনুমান।
