রাজ্যপালের কারনেই রাজ্যে ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে বিজেপির ? রাজ্য বিজেপির একাংশের মত এরকমই। অন্তত এরকমই অভিযোগ দানা বাঁধতে শুরু করেছে বিজেপির অন্দরে বলে সূত্রের খবর। তাদের মতে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা একটি সরকারকে অহেতুক উত্যক্ত করছেন তিনি। ক্রমাগত এই একই ঘটনা ঘটে চলায় রাজ্যে ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে রাজ্যপালের, তার সাথে একইভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে রাজ্য বিজেপির ভাবমূর্তিও।
{link}
উল্লেখ্য বিষয় জগদীপ ধনকড় রাজ্যপাল হয়ে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজভবন চরম সংঘাত। এর আগে রাজ্য-রাজ্যপালের এহেন তিক্ত সম্পর্কের সাক্ষী হয়নি রাজ্যবাসী। বিজেপির একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে যার খেসারত দিতে হয়েছে দলকে। কী করছেন রাজ্যপাল? রাজ্যপালের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকেই একের পর এক টুইট করে রাজ্যকে কার্যত ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পরেই রাজ্যপাল নানা অছিলায় রাজ্য সরকারকে প্রতিদিন নিশানা করতে থাকেন বলে অভিযোগ। তৃণমূলের আরও অভিযোগ, লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যপালকেই কার্যত ‘হাতিয়ার’ করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তার জেরেই রাজ্যপাল একের পর এক বাক্যবাণে বিদ্ধ করতে থাকেন রাজ্য সরকারকে। সেই থেকেই শুরু তিক্ত সম্পর্কের।
তবে বিজেপির ‘রাজ্যপাল অস্ত্র’যে ভোঁতা, তা মালুম হয় বিধানসভা নির্বাচনের ফলেই। রাজ্যে কার্যত একুশের নির্বাচনে আশানুরূপ ফলের পরিপর্তে মুখ থুবড়ে পড়েছে বিজেপি। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে তৃণমূল প্রার্থীরা। ২৯২টির মধ্যে মাত্র ৭৭টি আসন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় গেরুয়া শিবিরকে। তৃণমূল বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ায় তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রিত্বের পদে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, মমতার শপথ গ্রহণের পরের দিন থেকেই ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের পুরোনো ভূমিকায় ‘সক্রিয়’ হয়ে ওঠেন রাজ্যপাল। শুরু হয় রাজ্য সরকারকে নিশানা করার নয়া ইনিংস। যার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হল মমতার সঙ্গে ব্যক্তিগত কথাবার্তা ‘ফাঁস’ করে দেওয়া। রাজ্যপালের দাবি, মমতা নাকি তাঁকে আগেই ফোন করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
{link}
ব্যক্তিগত কথাবার্তা ফাঁস করে দেওয়াটা যে নীতিহীনতার পরিচায়ক, আবডালে তা মানছেন বিজেপির একাংশও। এঁরাই বলছেন, অনর্থক টুইট-বাণ নিক্ষেপ করে রাজ্যপাল দলের উপকারের চেয়ে অপকারই করছেন বেশি! তার উপর নারদ মামলার ক্ষেত্রেও প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে রাজ্যপালের। যে কারন ঘিরে কার্যত সামনা সামনি মুখে হাঁসি রাখলেও এই সম্পর্ক হয়ে উঠেছে সাপে নেউলের। একটু বেশি অতিরিক্তভাবে রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করার কারনে শুধু তারই নয় রাজ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিজেপির ভাবমূর্তি বলেও মতামত রাজ্য বিজেপির একাংশের।
{ads}