বাগনানের বিজেপি নেতা খুনের ঘটনায় গত এক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক বিক্ষোভ ও আন্দোলনে উত্তপ্ত বাগনান। অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে একই সঙ্গে বিক্ষোভরত বিজেপি কর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দফায় দফায় আন্দোলন করছেন বিজেপির যুবমোর্চার কর্মীরা। মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় আজ বিকেলে বিজেপির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ সভা করলেন বাগনান থানার অদূরে। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে যাতে কোনো রকম অপ্রিতিকর ঘটনা না ঘটে সেই জন্য আগে ভাগে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ। রাখা হয়েছিল জলকামান। সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপরে নজর রাখতে ছিলেন হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের একাধিক পদস্ত পুলিশ কর্তা। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, পুলিশ মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করে উলটে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের গ্রেপ্তার করছে, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। পুলিশ আগুন না নিভিয়ে নতুন করে আগুন জ্বালাতে চাইছে।
দলের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন এই সমাবেশে। সাংসদ অর্জুন সিং থেকে শুরু করে ভারতী ঘোষ,রাজ্য সহ সভানেত্রী মাফুজা খাতুন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজিয়া ইলাহি খান, হাওড়া গ্রামীণ বিজেপির সভাপতি শিব শঙ্কর বেজ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দগণ। প্রত্যেকে একত্রিত হয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ঘটতে থাকা নানান ঘটনার বিরোধিতা করছেন এই গণ ডেপুটেশনের মাধ্যমে।
যে কোনো রকম অপ্রিতিকর ঘটনার মকাবিলা করতে সামগ্রিক ভাবে তৎপর ছিল হাওড়ার গ্রামীণ পুলিশ।
২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই উত্তপ্ত হচ্ছে এই বঙ্গের রাজনীতির ময়দান। বিজেপি নেতার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সম্মুখ সমরে তৃণমূল ও বিজেপি। কিঙ্কর মাঝি হত্যার ঘটনাকে সামনে রেখে বাগনানের রাজনৈতিক জমি দখল করতে চাইছে বিজেপি। পাশাপাশি তৃণমূল তাদের দখলে থাকা জমি ছাড়তে নারাজ বিজেপিকে। এই নিয়েই চলছে চাপা নুতর, চলছে বাকযুদ্ধ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কিঙ্কর মাঝির পরিবার সুবিচার পাবে কবে ?
