সোমবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ বৃদ্ধা শুভা মজুমদারকে দেখতে আসেন শুভেন্দু অধিকারী ও ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। তারা সেখানে মিনিট পনেরো থেকে তার শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষন করেন এবং বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি পরামর্শ দিয়ে “মা কে সুস্থ করতে হবে” এই কথা জানিয়ে যান তারা।
এর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু জানান "শুভা মজুমদার হলেন বাংলার নারী বাংলার মা আমরা তাকে সুস্থ করতে এসেছি। তার মুখের দিকে তাকান দেখুন, কিভাবে মারা হয়েছে। এই ঘটনার জঘন্য, নিশংস। মমতা ব্যানার্জির সরকারের উচিত ছিল কোন রাজনৈতিক রঙ না দেখে পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু তা নেওয়া হয়নি। এখানকার পুলিশ আধিকারিক ও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তার ও তো মা আছে। আসলে এ রাজ্যে জঙ্গল রাজ চলছে। গত তিনদিন ধরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও খুব একটা ভালো ছিল না।' কার্যত এভাবেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় লোকাল থানার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এই পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন "রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্নতে রাজনৈতিক দলীয় অফিসে পরিণত করা হয়েছে। সেখানে সেখান থেকে তেজস্বী যাদব এর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করা হচ্ছে। তাই এই সরকারের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না।"
উল্লেখ্য বিষয় গত শুক্রবার রাত দেড়টা নাগাদ বিজেপি কর্মী গোপাল নিগৃহীত হন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয় তার বৃদ্ধ মা'কেও সেদিন রাতে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরই রাজনৈতিক চাপানোতোর শুরু হয়েছে। সোমবার রাতে শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও সোমবার সকালে আহত বিজেপি কর্মী গোপালের বাড়িতে এসেছিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও দেবজিৎ সরকার। তারা এই ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে নিমতা থানা ঘেরাও করেন। যার ফলে একথা স্পষ্ট যে নিমতার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রমশ আসতে থাকা দিনের সাথে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক মহল।
