শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: রাজনীতি হওয়া উচিত নীতির লড়াই। এখন আর তা নেই। এখন হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত কুৎসার লড়াই। অন্তত বিজেপি সেই পথেই যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে সোশাল মিডিয়া জুড়ে তুমুল বিতর্ক চলছে বাম নেতাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে। প্রথমে এক বিজেপি নেতা একটি পোস্টে দাবি করেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নাকি স্নাতক পাশ করতে পারেননি। জ্যোতি বসু, হরেকৃষ্ণ কোঙার-সহ অন্য নেতাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নানারকম তথ্য ছড়িয়েছে। বামেদের তরফে সেই তথ্য ভুয়ো বলে দাবি করে আরেকটি তালিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক বাম নেতাদের পড়াশোনার ইতিবৃত্ত।
* প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ব্যরিস্টারি পাশ করেছিলেন। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্সের ছাত্র ছিলেন তিনি। ১৯৩৫ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক পাশ করেন তিনি। এর তিনি পড়াশোনার জন্য চলে যান লন্ডনে। তথ্য বলছে, ১৯৪০ সালে ব্যারিস্টারি পাশ করেন জ্যোতি বসু। যদিও তিনি কখনই ওকালতি করেননি।
* তথ্য বলছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কলকাতার শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। এরপর প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলায় বি.এ. (অনার্স) পাস করেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি দমদমের একটি স্কুলে (আদর্শ শাঁখা বিদ্যা মন্দির) শিক্ষকতাও করেছেন।
* বিশিষ্ট বামপন্থী রাজনীতিবিদ তথা সিপিএম নেতা অনিল বিশ্বাস ১৯৬১ সালে কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স নিয়ে স্নাতক পাশ করেন। এরপর রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে কারাবন্দি ছিলেন তিনি। বন্দিদশাতেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি।
* কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা বামনেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আশুতোষ কলেজ থেকে বিএসসি (অনার্স) পাশ করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। বর্তমানে আইনজীবী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত তিনি।
* সিপিএম নেতা তথা পলিটব্যুরোর সদস্য প্রমোদ দাশগুপ্ত ১৯২৮ সালে বরিশাল জেলা স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর ব্রজমোহন কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন। তারপরই রাজনীতিতে প্রবেশ। কলকাতা কর্পোরেশন ওয়ার্কশপে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং-বিভাগে শিক্ষানবিশ ছিলেন তিনি।
