নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূমঃ বোলপুরে যেন নিজেদের ঘাঁটি গড়ে ফেলেছে সিবিআই। অনুব্রত মণ্ডল গ্রেপ্তারীর পর থেকেই একের পর এক বোলপুরে বড়ো বড়ো নাম উঠে আসছে সিবিআই-এর জালে। এবার বোলপুরে একযোগে তৃণমূল কাউন্সিলর-সহ তিন অনুব্রত ঘনিষ্ঠের বাড়িতে হানা সিবিআইয়ের। বুধবার সকালে সুদীপ্ত রায়, মৎস্য দপ্তর এর কর্মী, মনীশ কোঠারী অনুব্রত মণ্ডলের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এর বাড়িতে তল্লাশি চালায় সিবিআই। কাউন্সিলারের দেবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ( মুন), সুজিত দে (দোলন) ব্যবসায়ী এর বাড়িতেও হানা দেয় সিবিআই(CBI)।
{link}
এদিন সকালে গরুপাচারকাণ্ডে এবার বোলপুরে অনুব্রত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ( মুন) কে আটক করে সিবিআই। এর পাশাপাশি বীরভূম তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল-ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলর বিশ্বজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে মুনের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে আটক করে নিয়ে গেলেন সিবিআই আধিকারিকরা। এলাকায় মুন অনুব্রতের(কেষ্ট) ছায়াসঙ্গী হিসাবে পরিচিত। তৃণমূল নেতার বিভিন্ন কাজের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন এই কাউন্সিলর। তাঁকে অনুব্রতের বাড়িতেও যে কোনও সময় দেখা যেত। এবারেই কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্বজ্যোতি। মঙ্গলবার আসানসোলে জেলবন্দি অনুব্রতকে জেরা করেছেন সিবিআই আধিকারিকরা। গরু পাচার-কাণ্ডের তদন্তে নেমে অনুব্রতের মেয়ে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের নামে একাধিক সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে ওই তদন্তকারী সংস্থা। ওই সব সম্পত্তির উৎস জানতে চান সিবিআই আধিকারিকরা। সংশোধনাগারে সিবিআইয়ের প্রশ্নের মুখে পড়েন অনুব্রতের প্রাক্তন দেহরক্ষী সহগল হোসেনও। তারপর এদিনই একদিক অনুব্রত ঘনিষ্ঠদের বাড়িতে ‘অভিযান’-এ আসেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। কিন্তু কাউন্সিলার দেবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় কোন সূত্রে গ্রেপ্তার সেই বিষয়টি নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে কি ধীরে ধীরে সম্পূর্ন ভাবে ভেঙে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সংগঠন। এহেন সিবিআই হানায় গ্রেপ্তারী চলতে থাকলে, সেই দিন আর বেশি দেরি নেই।
